
চট্টগ্রামে পাঁচ দিনের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে অন্তত ২৩ হাজার ৪৩৩ লিটার ভোজ্যতেল। তেলের সংকট না থাকার পরেও সংকট দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে গিয়ে গুনতে হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও। শুধু জরিমানা আর উদ্ধার অভিযানেই সীমাবদ্ধ ভোজ্যতেলের বাজার; টনক নড়েনি এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তেল গুদামজাত করে বাড়তি দাম রাখার পায়তারা যেন কমছেই না। উল্টো অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর ফের আগের রুপে ফিরে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার। একদিকে মিলাররা গত দু’বছরে দফায় দফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সয়াবিন ও পামতেল আমদানিও বন্ধ ছিল না। তবুও বাজারে বাড়তি টাকা গুনেও মিলছিল না ভোজ্যতেলের বোতল। এমন সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনে অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বাজার, কর্নেল হাট বাজার, চৌমুহনী এলাকার সিডিএ কর্ণফুলী মার্কেটের মতো বড় বড় বাজারগুলোতে মজুদ করা হয়েছিল ভোজ্যতেল। শুধু তাই নয়, ফটিকছড়ি উপজেলায় স্বয়ং ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল।
ভোক্তা অধিকারের অভিযানে উঠে এসেছে ব্যবসায়ীদের একের পর এক কারসাজির চিত্র। কেউ কেউ ঈদের আগে তেল কিনে এখন নতুন দরে বিক্রির পায়তারা করছেন। আবার কেউ কেউ বোতলজাত তেল ড্রামে ভরে খোলা তেল হিসেবে বাড়তি দরে বিক্রিও করেছেন। আবার কেউবা পুরোনো দামের স্টিকারের উপর নতুন দাম বসিয়েও বাড়তি দামে তেল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন। এদিকে দোকান থেকে শুরু করে গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এক হাজার লিটার তেল পেলে তা তাৎক্ষণিক বিক্রির ব্যবস্থা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি লিটার তেল পাওয়ার পর এত তেল তাৎক্ষণিক বিক্রির ব্যবস্থা করতে না পেরে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দরে তেল বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর সে তেল আদৌ নির্ধারিত দরে বিক্রি হচ্ছে কিনা সে সংশয়ও থেকে যায়।
অন্যদিকে, রোববার (৮ মে) নগরীর চৌমুহনীতে সিডিএ কর্ণফুলী মার্কেটের খাজা স্টোরের গুদাম থেকে ১ হাজার ৫০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে ওই দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তেলগুলো সরকার নির্ধারিত দরে তাৎক্ষণিক বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
পাশাপাশি একই দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার বাগানবাজার দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামে ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলমগীর। এসময় ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকেও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একইভাবে সোমবার (৯ মে) নগরীর পাহাড়তলী বাজারে অভিযান চালিয়ে সিরাজ স্টোরের দোকান ও আরো দুটি গুদামে মজুদ করা ১৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করে ভোক্তা অধিকার। এসময় দোকানের মালিক মো. সিরাজকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তেলগুলো সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি করার নির্দেশনা দেয় কর্মকর্তারা।
বুধবার (১১ মে) বাজারে সংকট তৈরি ও আগের কেনা তেল নতুন দরে বিক্রির উদ্দেশে মজুদ করায় নগরীর কর্নেলহাটের জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা ও বিনিময় স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদাম থেকে ৪ হাজার লিটার ও বিনিময় স্টোর থেকে ১৩০ লিটার তেল পাওয়া যায়।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১২ মে) পাঁচ লিটারের বোতলজাত ভোজ্যতেল ড্রামে ভরে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করায় চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ছোটপুল এলাকার বিসমিল্লাহ স্টোরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় ওই দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ১৫ লিটার তেল। তবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে থাকা বাবার পরিচয় জাহির করে বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক ইয়াসিন আরাফাত।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘তেলের আমদানি বন্ধ নেই। তবুও ভোক্তারা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বাজারে ভোজ্যতেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। চরম সংকট তৈরি হয়েছে। তাদেরকে বাড়তি দরে তেল কিনতে হচ্ছে। তখনই আমরা বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা শুরু করি। অভিযানে আমরা পাহাড়তলী, কর্ণেলহাট, কর্ণফুলী মার্কেটের মত বড় বড় বাজারগুলোতে মজুদ করা তেলের সন্ধান পাই। সেগুলো উদ্ধার করে আমরা কখনো তেলগুলো তাৎক্ষণিক বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। আবার কখনো সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছি। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনছি। আশা করছি বাজারে এখন ভোক্তারা তেল কিনতে পাবেন।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যেখানে অভিযান চালিয়েছে সেখানে তেলের মজুত পাচ্ছে। ভোক্তা অধিকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, র্যাব, পুলিশের জোরালো অভিযান প্রয়োজন। এখন ছোট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান হলে আর বেশি মজুত করা তেল পাওয়া যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
- ১যশোর বোর্ডে প্রথম কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সামিউল
- ২শেরপুর সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ
- ৩তাড়াশে সাংবাদিক মৃণাল সরকার মিলু গ্রেপ্তার
- ৪চাঁদপুরে জমজ দুই বোনের একসঙ্গে জিপিএ-৫
- ৫সুন্দরবন মায়ের মতো আপন, অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই চাই কঠোর পদক্ষেপ
- ৬মাদারীপুরে মানব পাচারের গডফাদার এনামুল গ্রেফতার
- ৭দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিষে বদলে যাচ্ছে উপকূলের জীবন
- ৮মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাঁদপুরে ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- ৯লালমোহনের বেতুয়া খালে বেহেন্দি ও রিং জাল জব্দ
- ১০সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল কি না, তদন্তে বের হবে
- ১১৫ আগস্ট উপলক্ষে জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার
- ২কেশবপুরে ভেজাল শিশু খাদ্য বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ৩ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে দলীয় সুপারিশে ছাত্রদল নেতা ও তার প্রেমিকার নাম
- ৪শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙন রোধে বস্তা ফেলার দাবিতে মানববন্ধন
- ৫ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমলো সোনার দাম
- ৬চলতি বছরে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন: শাহে আলম
- ৭কুষ্টিয়ায় অসহায় ভ্যান-রিকশা চালকদের মাঝে ১৫০ ছাতা বিতরণ
- ৮চাটমোহরে ধারালো অস্ত্রাঘাতে কুকুর হত্যার অভিযোগ
- ৯ঝিনাইদহে নেশার টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে হত্যা
- ১০সীতাকুণ্ডে কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ‘লিকেজে’ নিহত বেড়ে ৫





পাঠকের মতামত