প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২২ ৪:৩২ পিএম

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে ৪টি বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৬টি সমীক্ষার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য অথবা গ্যাসভিত্তিক করা বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার অপরিসীম গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার জলবায়ু্র পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অনুসরণকে বাধ্যতামূলক করেছে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগস্ট ২০২১-এ দেশের হালনাগাদকৃত ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিশন’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় ৬.৭৩ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রাপ্তিসাপেক্ষে আরও ১৫.১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে ।

বাজেট বক্তৃতায় মুস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত অভিযোজন কৌশল ও করণীয় নির্ধারণকল্পে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০০৯ সালে প্রণীত ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা’ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া, শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে দেশে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত সকল প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশবান্ধব করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৮,৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি বাতিল করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬টিকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য অথবা গ্যাসভিত্তিক করা হবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের ৪০ শতাংশ জ্বালানির সংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিপি/এএস

শেয়ার

পাঠকের মতামত

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ...

যুবক ও যুব নারীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুবক ও যুব নারীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ...

নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তি, ...