
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের ঘোষণা বাতিল করা উচিত। আগামী বাজেট আলোচনায় এ ঘোষণা প্রত্যাহার করা হলে তা সুশাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে বলে মত ব্যক্ত করেছেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, দেশে মানি লন্ডারিং আইন রয়েছে। সেই আইনেই এটা দেখা উচিত। আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করেই পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা উচিত। আইনের বাইরে রেখে বলে দিলাম এটা ঠিক আছে, সেটা আসলে ভুল হবে। কালো টাকাকে সাদা করার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় বলার সুযোগ ছিল। এখানে সে সুযোগ নেই।
শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে করোনার অভিঘাত উত্তরণে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. নাজনীন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ ছায়া সংসদের আয়োজন করে।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, একজন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশি হিসেবে বলব, যদি অর্থনীতিকে দীর্ঘদিনের জন্য শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে কোনোভাবে কোনো জায়গায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সুশাসনকে পাশে রেখে তা আসলে সম্ভব না। আমরা যদি অতীতের অভিজ্ঞতা দেখি, ধূসর বা কালো টাকাকে সাদা করার প্রক্রিয়াগুলো দেখি, তাহলে আমরা দেখবো খুব বেশি টাকা যে এসেছে তা কিন্তু নয়। বরং এটি বিভিন্ন দেশীয় সৎ করদাতা তরুণদের ডিমোরালাইডজ করে।
তিনি বলেন, দেশে শক্তিশালী একটি মানি লন্ডারিং আইন আছে। সেই আইনের বাস্তবায়নই আমি দেখতে চাই। যদি কেউ বলে যে, বিদেশে টাকা পাচার করেছি যা অপ্রদর্শিত। সেভাবে প্রদর্শন করে পাচার করা আইন সম্মত কি না? উন্নয়নের যে জায়গায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে কিন্তু আমাদের এখন প্রমাণ করার বিষয়।
এখন প্রস্তুত হওয়ার সময় উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, দরিদ্র মানুষ যদি ছোট্ট অপরাধ করে, তাহলে আমরা বলি পেটের তাড়নায় করেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে, এটা এখন নিশ্চিত। এটা আর তবে-কিন্তুর বিষয় নয়। জাতিসংঘ থেকে ডিকলারেশন এসেছে। সেই পর্যায়ে আগামী চার বছর প্রস্তুত করার সময়। সেই জায়গায় আমরা আর বলতে পারবো না যে, নানা সমস্যা আছে, কিছু শাসনের অভাব আছে। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আমাদের কমপ্লায়েন্স দেখা হবে। কোনো কনসিডারেশন করা হবে না। সেখানে বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবনা যায় না, এটি সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সাতটি সাব ও উপ-কমিটি করা হয়েছে। সেখানে সুইচ ব্যাংকে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা আমি সাংঘর্ষিক মনে করি। যেখানে আমরা উন্নয়নের যাত্রা নিয়ে অহংকার করছি, বলছি আমরা আর দরিদ্র নই, দরিদ্র অবস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, তখন সুশাসনের অভাবকে বা সুশাসনের একটু বাইরের কোনো বিষয়কে উৎসাহিত করাটা ভালো কিছু হবে না। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা বলার মধ্যেই তো ‘অন্যায়কে স্বীকৃতি’ দেওয়ার উদ্যোগ। এটি থাকা অনুচিত।
তেল গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ঘাটতি রেখে ভর্তুকি দেওয়া ভালো উদ্যোগ। তেলে ভর্তুকি সরকার দিক, তবে অকটেনে নয়। এটি ধনীরা বেশি ব্যবহার করেন। সেই টাকাটা বরং ডিজেল-কেরোসিনে দেওয়া হোক। আর করোনার অভিঘাতের পরবর্তী সময়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা উচিত।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, আমাদের এখানে প্রায়ই বলা হয়, রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। রিজার্ভ যখন ৩২ থেকে ৪৮ হয়েছিল তখন কি আমরা বলিনি রিজার্ভ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি? রিজার্ভ থাকেই সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। সমস্যায় স্বস্তি দেওয়ার জন্য। যে পরিমাণ আতঙ্ক আমরা ছড়িয়েছি, সেরকম আতঙ্কিত হওয়ার জায়গায় আমরা যাইনি। একটা সময় দেশে তিন মাসের আমদানি করার টাকা থাকলেই বলা হতো যথেষ্ট। এখন পাঁচ মাসের থাকার পরও বলছি যে, আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে। কিছু একটা হলেই হই হই করা, দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে এমন কিন্তু নয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য খুব বেশি সুখবর নেই এ বাজেটে। ব্যক্তি করে নেই কোনো ছাড়, নব্য দারিদ্রদের জন্য নেই কোনো কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্ধিত ভাতার পরিমাণ যৎসামান্য, বাড়ানো হয়নি এর আওতা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ খুবই কম, নেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুস্পষ্টতা।
তিনি বলেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী গতকাল বলেছেন পরিবহন মালিকদের সাথে আলোচনা করে আবারো বাড়ানো হবে জ্বালানি তেলের দাম। গত কিছু দিন আগে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, আবারো জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত অস্বস্তিতে ফেলবে নিম্ন মধ্যবিত্তদের। আমাদের মতো দেশের বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যয় বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য। নয়। বাংলাদেশে যাতে শ্রীলঙ্কার মতো কোনো শ্বেতহস্তী প্রকল্প তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশ নেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ছায়া সংসদের বিষয় ছিল, প্রস্তাবিত বাজেট করোনা অভিঘাত উত্তরণে সহায়ক হবে। বিচারক ছিলেন সাংবাদিক জাহিদ রহমান, সাংবাদিক মাইনুল আলম, সাংবাদিক শারমীন রিনভী ও সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের প্রাপ্ত নম্বরে বিজয়ী হয় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।
বিপি/ আইএইচ
- ১অগ্রণী ব্যাংক ফান্ডের ৪% লভ্যাংশ ঘোষণা
- ২রিল্যায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ফান্ডের ১০% লভ্যাংশ ঘোষণা
- ৩লভ্যাংশ দেবে না ৮ মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- ৪স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
- ৫ইবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষ ভাংচুর
- ৬বৈশ্বিক সূচকে আজ ঢাকার বায়ু মাঝারিমানের
- ৭চাঁদপুরে এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিককে লাখ টাকা জরিমানা
- ৮ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ইবিতে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- ৯চাঁদপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন
- ১০ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস
- ১নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালী ও আলোচনা সভা
- ২নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
- ৩আইডিআরএ’র সদস্য হলেন সিরাজুল ইসলাম
- ৪যবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন
- ৫মানিকগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
- ৬সাংবাদিকরা হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্যমন্ত্রী
- ৭৫০ বছরে গ্রামীণ ব্যাংক: সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
- ৮প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা
- ৯বেরোবিতে স্নাতক পাসের আগেই জালিয়াতি করে সোহানের চাকরি, এবার স্থায়ীকরণের উদ্যোগ
- ১০গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী





পাঠকের মতামত