প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৪ ৮:৩১ পিএম , আপডেট: মে ১৫, ২০২৪ ৮:৪১ পিএম

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় খাদ্য, কৃষিপণ্য ও সারে কর না বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের শর্ত রেখে পুঁজিবাজারে অনিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর জন্য করপোরেট করের হার ২.৫ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

গত মঙ্গলবার (১৪ মে) ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেন শেখ হাসিনা। এতে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ থাকতে পারে। কারণ টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কথাও ভাবছে এনবিআর। এতে সেবাগুলোর জন্য গ্রাহকের খরচও বাড়বে।

সূত্র জানায়, ওই দিন প্রস্তাবিত নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংস্থাটির রাজস্ব কর্মকর্তারা। বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৪০ লাখ টাকার বেশি মূলধনী আয়ের ওপর কর অব্যাহতি রয়েছে। তবে নতুন বাজেটে একে করের আওতায় আনা হতে পারে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো ২০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দেয়ার সুবিধা পাচ্ছে। আর অনিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে ২৭.৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রণোদনাভিত্তিক করনীতির দিকে ঝুঁকছি। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে নির্দিষ্ট মাত্রার ওপর লেনদেন করলে কোম্পানিগুলো কম হারে কর পরিশোধের সুবিধা পাবে। প্রস্তাবটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি।

সূত্র জানায় জানায়, দেশে মূল্যস্ফীতির হার উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। তাই এনবিআরকে খাদ্যপণ্যে কর না বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে কিছু খাদ্যপণ্য, খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটে মোবাইল ফোনের টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপিত হবে।

বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক এবং সারচার্জসহ মুঠোফোন ব্যবহারকারীর ওপর মোট কর হার ৩৩ শতাংশেরও বেশি। এনবিআরের পরিকল্পনা গৃহীত হলে মোবাইল ফোনের ব্যয় ৫ টাকা বাড়বে। ইন্টারনেট খরচও সমান বৃদ্ধি পাবে।

অংশীজনরা বলছেন, মুঠোফোনে টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যয় বাড়লে নিম্ন-আয়ের গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল পরিষেবাদাতা রবি আজিয়েটা লিমিটেডের প্রধান কর্পোরেট ও রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদুল আলম বলেন, কর বাড়লে তা এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমবে।

দেশের মুঠোফোন পরিষেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করপেরেট কর দিতে হচ্ছে। রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, এনবিআরের পরিকল্পনা কার্যকর হলে আরো ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থনীতিবিদন ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত এই খাতের প্রবৃদ্ধি ও বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগকে ব্যাহত করবে।

সূত্র জানায়, তামাক খাতের পর দেশের মোবাইল ফোন খাতই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক দেয়। যার সিংহভাগই দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুঠোফোন খাত থেকে ৯ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ হয়।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (বিটিআরসি) তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি। গত আট বছরে গড় গ্রাহক প্রবৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৭০ লাখ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১৩ কোটির বেশি। গত আট বছরে যা বার্ষিক ১ কোটি করে বেড়েছে। উভয় সংখ্যা কমতে পারে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

১.৫ বিলিয়ন ডলারে ২১ বোয়িং কিনছে ইউএস-বাংলা, বিশ্ববাজারে বড় লক্ষ্য

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১ ...

কারখানা চালাতে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস চায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ

তীব্র গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প সচল রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের দাবি জানিয়েছে ...

রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সোমবার ...

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ...