প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২০ ৪:৫১ এএম

সাধারণত ঈদের পর রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। ঈদের পর ৪ দিন কেটে গেলেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। অধিকাংশ বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর সাধারণত সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে এবার সবজির চাহিদা আগের মতো বাড়েনি। করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঈদের আমেজ কারো মধ্যে ছিল না। যে কারণে এবার রাজধানীর বেশিরভাগ মানুষের ঈদের দিন সাধারণ দিনের মতোই কেটেছে।

তারা বলেন, ৩১ মে থেকে অফিস খুলছে। সেই সঙ্গে গণপরিবহন চলাচলের কথা বলা হয়েছে। কাজেই ৩১ মে’র পর থেকে রাজধানীতে মানুষের চলাচল বাড়বে। আবার যারা ঢাকার বাইরে গ্রামের বাড়িতে রয়েছে তারাও ফিরে আসবে। ফলে সবজিসহ সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এতে তখন দামও কিছুটা বাড়বে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগের মতো এখনও বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। রোজার শুরুর দিকে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজর ঈদের আগে দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়। এখনও বাজার ও মানভেদে গাজরের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

গাজরের এই দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়ী আলম বলেন, গাজরের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন খুবই সীমিত পরিমাণে গাজর পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে গাজরের দাম বেড়েছে। নতুন গাজর না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে রোজার শুরুর দিকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম ঈদের আগে ২০ থেকে ২৫ টাকায় নেমে আসে। এখনও শসার কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজার শুরু থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম কমে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে।

এছাড়া পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, চিচিংগা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগেও সবজিগুলোর দাম এমনই ছিল।

সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী ফিরোজ বলেন, সাধারণত ঈদের পর সবজির দাম কিছুটা বাড়ে। কিন্তু এবার কোন সবজির দাম বাড়েনি। আসলে এবার যে ঈদ হয়েছে তা খুব একটা বোঝা যায়নি। করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ বেশিরভাগ মানুষেরই সাধারণ দিনের মতো কেটেছে। সে কারণে ঈদের আগে বাজার যেমন ছিল এখনও বাজার তেমনি রয়েছে।

মালিবাগের ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, এবার তো ঈদ হয়েছে বোঝা যায় না। কারও মধ্যেই ঈদের কোনো আমেজ ছিল না। আমরা ঈদের আগে যেমন বেচাবিক্রি করেছি, এখনও তেমনি করছি। ঈদের আগে মানুষ যেমন কম বের হতো, এখনও কম বের হচ্ছে। তবে ৩১ মে’র পর মানুষের চলাচল বাড়তে পারে। তখন সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বেড়ে যাবে বলে আমাদের ধারণা।

সবজির পাশাপাশি দাম স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। আর বেড়েছে ডিমের দাম। ঈদের আগে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বয়লার মুরগির দাম কমে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের মতোই রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৫০০ টাকা। নলা (ছোট রুই) মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা, পাঙাশ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। জাগো নিউজ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। ...

গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর আরও বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠকে মানবপাচার রোধে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড ...