প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২০ ২:১৮ পিএম

এসএমই খাতের উপর অনেক দেশের বড় ইন্ডাস্ট্রি নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, এসএমই ফাইন্যান্সের মাধ্যমেই শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এখন যারা ছোট প্রতিষ্ঠান তারাই এক সময় বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বাংলাদেশে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ছোট থেকেই শুরু হয়েছিলো।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সব সময় যে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকবে তা নয়, বড়রা এক সময় হারিয়ে যাবে। সেই জায়গা দখল করবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো।

ছোট ছোট এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাব-কন্ট্রাকের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব বড় প্রতিষ্ঠানের বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ভ্যালু সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে কৃষির পরই এসএমই খাতের অবস্থান। কিন্তু এই খাতের উদ্যোক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন না। ৯২ শতাংশ উদ্যোগ শুরু হয়েছে নিজের বা পরিবারের অর্থে। মাত্র ১-১.৫ শতাংশ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিয়ে শুরু হয়েছে। তাই এই খাতটি নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টজনদের চিন্তা করা উচিত।

এই গবেষক বলেন, এসএমই খাতে জব ক্রিয়েশন ভালো। আর এটা আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জব ক্রিয়েশন করতে হলে এসএমই খাতকে দেখতে হবে।

কোভিডের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ঝরে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কঠিন মুহূর্তে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে সঙ্কট বাড়বেই।

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে ব্র্যাক ব্যাংক ৫১ শতাংশ ঋণ দিচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝি খাতের উদ্যোক্তাদের। এই খাতে আমাদের ৬০ শতাংশ ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বড় উদ্যোক্তাদের চেয়ে ছোট উদ্যোক্তারা কম ঋণ খেলাপি কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ খান।

সেমিনারে আইডিএলসি ও পিআরআই পরিচালিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও অধ্যাপক বজলুর রশিদ খন্দকার।

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বজলুর রশিদ খন্দকার।

এতে দেখানো হয়, ২০১৯ সালে আইডিএলসি থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার মানুষ। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ মাইক্রো ও ৭০ শতাংশ স্মল। এখান থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান অন্তত ১৬ জনের কর্ম সংস্থান করেছে বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সায়েমা হক বিদিশা।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...

জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ বিএসইসির

পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে ...

জিবিবি পাওয়ারের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, ডিএসইর সতর্কবার্তা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারদরের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নজরদারিতে এসেছে। এ ...

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ...