প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২২ ৩:৩১ পিএম

ঘড়ির কাঁটায় সকাল নয়টা সাত মিনিট। মঞ্চে যশোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বর্ষবরণ পর্ষদের নেতৃবৃন্দ। মঞ্চ থেকে ঘোষণা আসলো শুরু হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

যশোর টাউনহল মাঠের পশ্চিম গেট দিয়ে বের হয়ে দড়াটানা মোড় ও চিত্রামোড় হয়ে চৌরাস্তা ঘুরে সঙ্গীত পাড়া ধরে আবার টাউন হল মাঠে ফিরবে শোভাযাত্রা। মাঠে তখন ঢাক ঢোল হাতি ঘোড়া ময়ুর পাখি পেঁচা, টেপা পুতুল মাছ, নানা ধরণের মুখোশ। বর্নিল পোষাকের সাথে নানা সাজসজ্জায় মানুষের অধীর অপেক্ষা। ঢাকের বাদ্যের সাথে শুরু হলো শোভাযাত্রা। তখন প্রাণের আতিশায্যে কে কোথায় তা ভাবার সময় নেই কারো, মুক্ত প্রাণের উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছিলেন সবাই। নৃত্যের তালে শোভাযাত্রাটি ঘুরে আসে এক কিলোমিটারের অধিক পথ। রাজা বাদশা, মন্ত্রী শাস্ত্রী, প্রকৃতির সন্তান ভূমিপুত্র থেকে ধানের গোলা ফুল পাখি আর অশুভ শক্তির প্রতীকি উপস্থিতি শহরকে মাতিয়ে তোলে এক নবতর প্রেরণার উৎসবে। যার উদ্দেশ্য ছিলো পুরাতন বছরের জীর্ণ জরা আর অশুভ অন্ধকারকে পিছে ফেলে নতুন বছরের নতুন সূর্যের মঙ্গলালোকে ধরাকে উদ্ভাসিত করা।

বাংলা ১৩৯৩ সাল থেকে যশোরেই যাত্রা শুরু করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুপীঠের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুব জামাল শামীম ও হিরন্ময় চন্দের হাত ধরে যশোরের মাটিতে শুরু হওয়া এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায়। যদিও বাংলা ১৩৯৭ থেকে মাহবুব জামাল শামীম ও হিরন্ময় চন্দের উদ্যোগেই ঢাকায় শুরু হওয়া মঙ্গল শোভা যাত্রাটিকে প্রথম বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

তবে তা মানতে নারাজ যশোরের আপামর মানুষ।তীর্থভূমি যশোরের মাটিতেই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা পেরুলো তিন যুগের মাইল ফলক। রোজার মধ্যে নববর্ষের আয়োজন নিয়েই যখন অনেকে সন্দিহান ছিলেন তখন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শুধু নববর্ষেরই আয়োজন করেনি, আবার সম্মিলিতভাবে আয়োজন করেছে মঙ্গল শোভাযাত্রারও। যশোরের বিশিষ্টজনেরা বলছেন এবারের শোভাযাত্রাটি অনেক কিছুতেই স্মৃতিময়। সর্বশেষ সম্মিলিতভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল ২৮ বছর আগে। এরপর আয়োজনগুলি ছিলো জেলা প্রশসন কিম্বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিজস্ব উদ্যোগে। যেখানে প্রাণের টানে অংশ নিতেন অন্যরাও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে তাই সকল প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে যশোরবাসী শামিল হয়েছিলেন প্রাণের উৎসবে।

একদিকে তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে পবিত্র রমজান, এর মধ্যেই সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বন্ধনে আবদ্ধ সোনার বাংলা তা কোন অশুভ তৎপরতা রুখতে পারবে না। সংস্কৃতির এই মেলবন্ধনেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান, স্বস্তি ফিরেছে হাজারো মানুষের চলাচলে

বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের একরামখালী গ্রামের আইয়ুব আলী খানের বাড়ি থেকে পঞ্চগ্রাম সম্মিলিত ...

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সালের বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত অ্যাডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান ...

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কয়রায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিক্ষোভ

খুলনার কয়রা উপজেলায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কয়রা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ...

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনঃনিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ ...