
সময় পরিবর্তনের সাথে আর আধুনিক যন্ত্রপাতির আদলে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন যাত্রা। একটা সময় ছিল মাধবপুর উপজেলার ভাটি অঞ্চলগুলো তে প্রায় দেখা মিলতো ঘোড়া দিয়ে তেলে ঘানি।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাধবপুর উপজেলার থেকে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য তেলের ঘানি। এক সময় মানুষের রান্না বান্না ও গায়ে মাখার জন্য যে তেল ব্যবহৃত হতো, তার একমাত্র অবলম্বন ছিল কাঠের তৈরী ও গরুর বা ঘোড়ার কাঁধে ঘুরানো ঘাঁনি। আজ কালের আবর্তনে গ্রাম-বাংলার চিরায়িত সেই ঘাঁনি মেশিন এখন বিলিনের পথে। এক সময় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আগের দিনের রাজা বাদশাদেরও তেলের চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপায় ও মাধ্যম ছিলো কাঠের তৈরি ঘানি তে। কাঁক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রাম বাংলার নারী-পুরুষের ব্যস্ত সময় কাটত এই ঘানি মেশিনের সাথে। গ্রামগঞ্জের এ যুগের প্রজন্মের কাছে কাঁঠের তৈরী ঘানি এখন শুধুই যেন রূপকথার গল্প। এখন সরিষা ও নারকেল মাড়াইসহ ঘানি মেশিনের যাবতীয় কাজ করছে ইঞ্জিনচালিত মেশিন। তাই গ্রাম-বাংলার প্রচীন ঐতিহ্য কঠের তৈরী ঘানি আজ অসহায় আধুনিক মেশিনের কাছে।
প্রযুক্তির এই যুগে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন। বিদ্যুৎ চালিত এ প্রযুক্তিতে অল্প সময়ে অনেক কাজ করা যায়। উন্নত প্রযুক্তির মেশিন তৈরীর ফলে সুখ প্রিয় বাঙালী পরিবার আর সময় নষ্ট করে, সারাদিন বসে থেকে, ঘানি দিয়ে সরিষা ও নারকেল মাড়াই করে তেল তৈরী করতে চায় না। আর তাই কালের বিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির কাছে হার মেনে কাঁঠের তৈরী এই ঘানি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
সরেজমিনে মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নে পিয়াইম গ্রামে রাস্তার পাশে কাঁঠের তৈরী ঘানির দেখা মেলে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আধুনিকতার ছোয়ায় সকল পেশা পরিবর্তন করে ঝুকে পড়েছে অন্য পেশায় বা পাড়ি জমিয়েছে অন্য দেশে। তারপরও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জরাজীর্ণ কিছু পরিবার এখনও বাপ-দাদার ঐতিহ্য হিসেবে ধরে রেখেছে কাঠের তৈরী ও গরুর কাঁধে ঘুরানো এই ঘানির পেশাকে। লাভহীন এই পেশাকে বর্তমানে বাপ-দাদার পেশা রক্ষায় আকড়ে রেখেছে মুষ্টিমেয় কিছু পরিবার।
উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের পিয়াইম গ্রামের ঘানির মালিক শাহ আলম জানান, সরিষা কিনে ঘানি দিয়ে তেল তৈরি করে হাট বারে হাটে নিয়ে বিক্রি করে জীবন যাপন করি । তিনি আরো জানান, এই পেশায় আগের মতো আর ইনকাম নেই আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবাই এখন মেশিনের তৈরি তেল ব্যবহার করে।
পিয়াইম গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, ঘানি গ্রাম-বাংলার প্রাচিন ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই ঘানিতে ভাঙানো তেল অনেক পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু সময়ের সাথে মানুষের মনেরও অনেক পরিবর্তন। মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করতে চায়। তাই উন্নত প্রযুক্তির যুগে গরুর কাঁধে ঘুরানো ঘাঁনি এখন বিলুপ্ত প্রায়। তবে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হাজার বছরের ঐতিহ্য ঘানি বেঁচে থাকতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
- ১কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের চুক্তি
- ২জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম
- ৩সাতক্ষীরায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল ১৭ বিজিবি
- ৪বাংলাদেশকে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া
- ৫হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
- ৬ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক-অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
- ৭শফিউল বারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ
- ৮গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৯জনগণের ওপরে যারা ক্ষমতা প্রদর্শন করবে তারা দলের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী
- ১০ফরিদপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন
- ১চরফ্যাসনে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু
- ২১৩ দিনে সরকারের ব্যাংক ঋণ ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা
- ৩জাতীয় অধ্যাপক হলেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ
- ৪রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম: বাণিজ্যমন্ত্রী
- ৫স্পিকারের দিকনির্দেশনা পেলেই গাজী নজরুলের এমপি পদের সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
- ৬চাঁদপুরে অনুমতি ছাড়া নদী দখল করে হোটেল নির্মাণ
- ৭দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
- ৮‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ৯শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী
- ১০ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন





পাঠকের মতামত