
মানিকগঞ্জে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও এ জেলার চরাঞ্চলে কোনো উন্নয়নের ছোয়া এখনো পৌছায়নি। এ জেলার চরাঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত চর এলাকার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এলাকা হলো জেলার হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন।
স্বাস্থ্য বিভাগীয় তথ্য মতে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার আট’শত আটষট্টিটির মতো আধুনিক কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রায় বত্রিশ প্রকারের ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেখানে বিতরণ করা হয়।
এখানে নেই কোনো হাসপাতাল অথবা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক। মা ও শিশুর জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের অভাব চোঁখে পড়ার মতো। সরকারের পক্ষ থেকে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নির্ভর করতে হয় কয়েকজন (ধাত্রী) দাইয়ের উপর।
এদিকে চরাঞ্চলে যেহেতু স্বাস্থ্যসেবা পৌছানো খুবই দুঃসাধ্য তাই এ এলাকার মানুষের দাবি সরকারের পক্ষ থেকে এখানে সাহসী মহিলাদের সমন্বয়ে বেশি করে ধাত্রী কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া। কেননা গত বিশ বছর ধরে এখানে একজন মাত্র মহিলাই রয়েছেন যিনি গর্ভবতী মায়েদের প্রসবের কাজটি করে আসছেন। দিন বা রাত যেকোনো মুহূর্তে এই দাই’মাকে ডাকলেই এলাকাবাসি কাছে পান।
স্থানীয়ভাবে ঐ মহিলা দাই’মায়ের দায়িত্বে নিজেকে অনেকটা সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা ভেবেই নিয়োজিত রেখেছেন। কখনো কখনো দিনে তিন-চারটা প্রসবের কাজও করেন। তিন সন্তানের জননী আম্বিয়া বেগম এমনটিই জানান।
আম্বিয়া বেগম আরও বলেন, আমার কোনো মোবাইল নাই, এলাকায় সবাই আমাকে চিনে। তাই যখনই কারো প্রসব বেদনা উঠে তখনই আমাকে মোটরসাইকেল করে লোকজন এসে নিয়ে যায়। দিন বা রাত হোক আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার বাধা আসে না। তারা বরং আমাকে উৎসাহিত করে আসছেন।
এদিকে মায়ের এমন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আম্বিয়া বেগমের ছেলে মোঃ আকতার হোসেন জানান, ছোট বেলা থেকেই মাকে তারা এই প্রসবের কাজে তৎপর দেখছেন। কখনো পরিবারের পক্ষ থেকে তার মায়ের এমন সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা তো দেয়া হয়-ই-নি বরং উল্টো উৎসাহ দেয়া হয়ে থাকে। সন্তান হিসেবে নিজেদেরকে মায়ের এমন ভালো কাজের জন্য গর্বিত মনে করেন। এক সময়ে তার আব্বুও প্রসবের এই কাজটি করতেন বলেও তিনি জানান। এছাড়াও যেহেতু এ অঞ্চলে কোনো ভাল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নেই সেহেতু আম্মুর মতো আরও প্রসবের কাজে দক্ষ নারীদের ব্যবস্থা করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন আম্বিয়া বেগমের ছেলে।
অপরদিকে এলাকাবাসী বলেন, মহিলাদের প্রসব বেদনা উঠলে আমরা রাত বা দিন নাই। সব সময়ই আম্বিয়া আপাকে ডাকলে পাওয়া যায়। আম্বিয়া বেগম আছে বলেই এলাকায় প্রসবের এই কাজটি করা যায়। তা না হলে আল্লাহ-তালাই জানেন আমাদের কি হতো।
তিনি আরও বলেন আম্বিয়া বিশ বছর ধরে এই প্রসবের কাজটি করে আসছেন। আল্লাহ’র রহমতে একটা বাচ্চাও মারা যায় নাই। তবে সরকার যদি আমাদের এলাকায় কিছু মহিলাদের প্রসবের কাজের প্রশিক্ষণ দিতো তাহলে আমাদের জন্য খুবই উপকার হবে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল আমীন আখন্দ বলেন, আসলে লেছড়াগঞ্জ খুবই দুর্গম এলাকা। নদী পার হতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টারও বেশী। এখানকার জনপথ তেমন উন্নত নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না বিধায় এখানে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা ভালো ভাবে পৌঁছায়নি। ওই এলাকায় আমাদের একটা মাত্র স্বাস্থ্য সেবার সাব সেন্টার রয়েছে। তাও সেটা খুবই জরাজীর্ণ এবং বসবাসের জন্য অনুপোযোগী। তারপরও ওখানে আমাদের দুই জন স্বাস্থ্য সেবার জন্য লোক রয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু সেন্টারের অবস্থা খুবই খারাপ,তাই আমাদের পক্ষে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বহু বার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি সাব সেন্টারটির মেরামতের জন্য কিন্তু তারা আমাদের সে ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে আমরা আশা করি অতিসত্বর ভবনটি পুনঃ নির্মাণ করা হলে গর্ভবতী মায়ের সেবাসহ অন্যান্য সেবা দেয়াও সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, যদিও লেছড়াগঞ্জ অনেকটাই দুর্গম এলাকা। তথাপি প্রতিটি ইউনিয়নে বা ওয়ার্ডে আমাদের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছে। তাদের মাধ্যমে অর্থাৎ সিএসবি-এর সাহায্যেও তারা চাইলে মেটারনিটির সেবাটি পেতে পারেন।
তবে চরাঞ্চলের মানুষ সাধারণত ধাত্রী দ্বারাই ভেলিভারির কাজটি সম্পন্ন করে থাকেন এবং সাচ্ছন্দ বোধ করেন। দাইয়েরা তো প্রশিক্ষিত না। মাতৃত্বকালীন ঐসময় টায় রক্তক্ষরণের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তাই একটা ঝুঁকিও থেকে যায়। কিন্তু প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মী দিয়ে কাজটি করলে ঝুঁকি কমে যায় বলেও শিকার করেন তিনি।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় লেছড়াগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবার সাব সেন্টার থাকলেও সেখানে কোনো রোগী যায় না। কেননা সেখানকার স্বাস্থ্য সেবা নেই বললেই চলে। সেই সাথে এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা পাওয়া টাও অনেকটাই স্বপ্নের মতো। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর একটাই দাবি যেহেতু এ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয় সেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে এই এলাকার মহিলাদেরকে নিয়ে ধাত্রী বিদ্যায় প্রশিক্ষণ দেয়া হোক। অন্যথায় এ অঞ্চলে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
- ১চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ২সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ৩সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে
- ৪নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার
- ৫নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান
- ৬জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া : তথ্যমন্ত্রী
- ৭মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
- ৮কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- ৯বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ১০যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
- ১‘লুটপাটে সহায়তাকারী’ আইএফআইসির এমডি মনসুর মোস্তফা বহাল তবিয়তে
- ২ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ৩চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৪শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৫নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৬পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৭ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৮শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ৯প্রবাসী কার্ডে মিলবে প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা
- ১০সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের পরিবারকে সরকারি সহায়তা





পাঠকের মতামত