জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৩:২৭ পিএম

দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে হাহাকার ও দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে। নগরীর টাইগারপাস, মুরাদপুর ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বাইক ও গাড়িচালকদের তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গ্রাহকরা আগেভাগেই ট্যাংক পূর্ণ করার চেষ্টা করায় পাম্প কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় অনেক পাম্প সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্টরা এই অস্থিরতার জন্য ডিপো থেকে তেল বরাদ্দের ‘পুরো রেশনিং পদ্ধতিকে’ দায়ী করছেন। তাদের দাবি, ২০২৬ সালে যানবাহনের সংখ্যা ও তেলের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২০২৫ সালের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে।

টাইগারপাস এজেন্সীজ লিমিটেড ও এস এইচ খান অ্যান্ড সন্স পাম্পের কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের রেশনিং পদ্ধতি দিয়ে চলতি বছরের চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো কোনো পাম্প তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। দামপাড়া সিএমপি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, “আমরা প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ পাই।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে প্রতিটি বাইকের জন্য সর্বোচ্চ ৫শ টাকার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, মুরাদপুরের ফসিল পাম্প এবং প্রবর্তক মোড়ের ফয়েজ আহম্মদ সন্স পেট্রোল পাম্পে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম অকটেন ১৪০ টাকা (প্রতি লিটার), পেট্রোল : ১৩৫ টাকা (প্রতি লিটার), কেরোসিন : ১৩০ টাকা (প্রতি লিটার), ডিজেল ১১৫ টাকা (প্রতি লিটার)।

প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক চালক এমাদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করার পর সামান্য তেল পেয়েছেন। দাম বাড়লেও যাতায়াতের জন্য তেল নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

দ্রুত সরবরাহ না বাড়ালে এই অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরীর গণি বেকারি এলাকার কিউসি পেট্রোল পাম্পের সামনে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রাইভেটকার চালক রহমত আলী এবং মোটরসাইকেল নিয়ে আসা চাকরিজীবী সালেহ আহমেদ।

রহমত আলী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ভাই, অকটেনের দাম একলাফে ২০ টাকা দাম বাড়াল সরকার, কিন্তু তেল তো পাচ্ছি না। গতকাল তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আজকেও একই অবস্থা। পেটের দায় তো আর এই অজুহাত বোঝে না!”

চট্টগ্রামের এই চিত্র যেন আজ সারা দেশের প্রতিচ্ছবি। একদিকে পকেট কেটে যাচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষায় সময় ও শক্তির চরম অপচয় ঘটছে।

ইএটি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন খানজাহান আলী (রহ.) বিমানবন্দর প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রায় তিন দশক ...

মাদারীপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মাদারীপুর শহরের পুরাতন বিসিক এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ...

গাজীপুর জেলা শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শরীফুল ইসলাম সরকারকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং ...