নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬ ৯:৩৬ পিএম

প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের প্রতিটি নাগরিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সমান অংশীদার হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) অনুষ্ঠিত ‘যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। সঠিক সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীরাও দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও উন্নয়নের সমান অংশীদার হতে পারে। এ কারণে সরকার তাদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। সবার জন্য প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা প্রতিবন্ধী তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম। আগামী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল আইটি কম্পিটিশন ফর ইয়ুথ উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজে’ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক বলেন, যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম। উপযুক্ত সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম। ভবিষ্যতেও বিসিসি, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) এবং ইউএপির যৌথ উদ্যোগে আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন চলমান থাকবে।

এবার প্রতিযোগিতার দশম আসরে চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে ২১ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে ২৫ জন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে ১৫ জন এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি) বিভাগে ৯ জন প্রতিযোগিতা করেন। চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ১২ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে মো. শাকিল মিয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে শেখ ইয়ামিন আহসান, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে নাহিন সিরাজ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিভাগে আরিয়ান ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হন। তারা আগামী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল আইটি কম্পিটিশন ফর ইয়ুথ উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজে’ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

এসময় সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক, প্রতিযোগীদের অভিভাবক এবং বিসিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

আইনমন্ত্রী মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মধ্যস্থতা বিরোধ নিষ্পত্তির এমন একটি কার্যকর ...

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, দেশে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যায় ...

রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রোগীদের প্রতি সব সময় সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে চিকিৎসকদের। প্রতিকূল ...

তথ্যমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের সবচেয়ে ...