প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১ ৩:২৩ পিএম

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় গণিতের উত্তর না দাগিয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আবেদন করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর আগের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয় পড়তে হলে আবশ্যিকভাবে গণিত বিষয়ের উত্তর করতে হত। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এমনটিই হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয় পড়তে হলে আলাদা করে গণিতের নম্বর চাওয়া হয়নি। এতে করে গণিতের উত্তর না করেও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যারা গণিতের উত্তর করেছেন তাদের থেকে যারা বায়োলজি বিষয়ের উত্তর করেছে কিংবা আইসিটি উত্তর করেছে তারা এগিয়ে যাবে। কেননা পরীক্ষায় গণিতের উত্তর করতে অনেক সময় ব্যয় হয়। এছাড়া প্রশ্নও তুলনামূলক কঠিন ছিল। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই বিষয়গুলো ভাবা দরকার ছিল।

এ প্রসঙ্গে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা সুলতানা জানান, ভর্তি পরীক্ষায় যারা ৫০ নম্বরের অধিক পেয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী বায়োলজি এবং আইসিটি বিষয়ের উত্তর করেছে। যারা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে গণিত দাগিয়েছিল তারা তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েছে। কেননা গণিত প্রশ্ন অনেক কঠিন হয়েছিল। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না।

বগুড়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আশা জানান, আমরা জানতাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয় পেতে হলে গণিতের উত্তর করতে হবে। আর জীববিজ্ঞান বিষয়ের উত্তর করতে হবে এ সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য। অনেক আগে থেকেই এই নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে আসছে। অথচ এখন যারা গণিতের উত্তর করেনি তারাও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আবেদন করতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কোনো শর্ত না রেখেই আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে। এতে করে কেউ ম্যাথ না দাগিয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়তে পারবে। আর যারা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে গণিতের উত্তর করেছিল তারা পিছিয়ে পড়বে। এত বৈষম্য কেনো?

সার্বিক বিষয়ে জানতে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল গণিত, বায়োলজি এবং আইসিটি বিষয়ের মধ্যে যেকোন দুইটির উত্তর করতে হবে। কোনটির উত্তর করলে কোন বিষয় পাওয়া যাবে সেটি উল্লেখ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব ছিল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের। সেটি শেষ। এখন ভর্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের। তারা কীভাবে ভর্তি নেবে এটি তাদের নিজেদের ব্যাপার। এ বিষয়ে গুচ্ছ কমিটির কোনো বক্তব্য নেই।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

একটি সাক্ষরের ভুলে ভেঙে গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের শূন্য আসনে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ...

ডিবেটিং এডুকেশন সোসাইটির নতুন সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সম্পাদক মহিউদ্দিন

দেশব্যাপী বিতর্কচর্চা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা সংগঠন ডিবেটিং এডুকেশন সোসাইটি ইন ...

বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ...

বাকৃবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ...

ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি (Traceability) চালুর ...