
সুন্দরবন ট্যুরিজম শিল্পের নতুন বন্ধু পরিবেশবান্ধব ইকো রিসোর্ট
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রত্ন সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে বিপুল বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবজন্তু, অমূল্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এক অদ্ভুত শান্তি। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, ইকো রিসোর্টগুলোর মাধ্যমে এর পর্যটন শিল্প আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।
সুন্দরবন ও তার পর্যটন সম্ভাবনা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুন্দরবন বিশাল পরিসরে পর্যটকদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। সুন্দরবনে প্রায় দুই লাখ পর্যটক প্রতিবছর ভ্রমণ করে, কিন্তু বাড়তে থাকা পর্যটকের চাপ পরিবেশের উপর বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এবং বন অধিদপ্তর সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজম প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে যেমন স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তেমনি বনের ক্ষতিও কমানো সম্ভব হচ্ছে।
ইকো রিসোর্টের উদ্যোগ
সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব ট্যুরিজমের সাথে একাত্ম হতে শুরু করেছে বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা। তারা গড়ে তুলেছে বেশ কিছু ইকো রিসোর্ট, যা অতিথিদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে আবাসন সুবিধা দেয়। খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ও বানিয়াসান্তা ইউনিয়নে এসব ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠছে। বনলতা, ম্যানগ্রোভ হ্যাভেন, জঙ্গলবাড়ি, বনবাস, ইরাবতী, মাটির ময়না, পিয়ালি, নির্বাসন এবং সুন্দরী ইত্যাদি রিসোর্টগুলোই এর উদাহরণ।
প্রতিটি রিসোর্টই বনভূমির নিকটে এবং এতে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রী যেমন বাঁশ, কাঠ, গোলপাতা ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব। কিছু রিসোর্ট যেমন জঙ্গলবাড়ি পানির উপরে নির্মিত, যেখানে থেকে নদী ও বনের দৃশ্য দেখা যায়। এসব রিসোর্টে একদিকে অতিথিরা সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি না করে জীবনযাপন করতে পারেন।
পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজমের সুবিধা
এ ধরনের ইকো রিসোর্টগুলোর মধ্যে পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যেখানে পর্যটকরা কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন না, সেই সাথে স্থানীয় মানুষদেরও আর্থিকভাবে সাহায্য করা হয়। রিসোর্টের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনায় স্থানীয় মানুষদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা আগে বনভূমি থেকে গাছ কাটত বা অবৈধভাবে শিকার করত। বর্তমানে তারা এসব কাজ থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।
এছাড়া, এই রিসোর্টগুলোতে থাকা পর্যটকরা স্থানীয় অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ তারা প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত থেকে তার সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন হয়।
পর্যটন শিল্পের প্রসার ও স্থানীয় উন্নয়ন
সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজমের বিকাশের ফলে, এখানে পর্যটকদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি স্থানীয় জনগণের আয়ের উৎসও বাড়ছে। সুন্দরবনের আশেপাশের অঞ্চলে ছোট-খাটো ব্যবসা যেমন গাইড সার্ভিস, নৌকা ভাড়া, খাদ্য সরবরাহ, হস্তশিল্প বিক্রি ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, এসব অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
এ ছাড়া, পর্যটন শিল্পের বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থানীয় কৃষক এবং মৎস্যজীবীরা নতুন উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছে। স্থানীয়রা এখন বুঝতে পারছেন যে, বন ধ্বংস না করে পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে তারা আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের সুরক্ষা
সুন্দরবনে ইকো ট্যুরিজমের প্রসারের ফলে শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই হবে না, বরং বনের সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন। এর ফলে, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
শেষ কথা
এখানে বলা যায়, সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্যও একটি অমূল্য সম্পদ হতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটবে না, স্থানীয় জনগণের জীবনমানও উন্নত হবে। যদি ইকো ট্যুরিজমের এই ধারাটি বজায় থাকে, তবে সুন্দরবন হতে পারে বিশ্বের অন্যতম পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে।
বিএইচ
- ১স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম
- ২পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৩পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৪বন্যাকবলিত ৩ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ৫সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- ৬‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৭মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
- ৮UCB Price Sensitive Information
- ৯কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার
- ১০চাঁদপুরে ভরণ-পোষণ দাবি করায় মা’কে হত্যাচেষ্টা
- ১চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ২এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ৩ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৪একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৫সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ৬এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৭শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৮সবার জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটিমন্ত্রী
- ৯মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ১০আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?





পাঠকের মতামত