
পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই রয়েছে বেশ কয়েকটি পাঁচতারকা মানের হোটেল। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট।
সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম-বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট। এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র ফিস একুরিয়াম। আরও রয়েছে প্যারাসেলিং, ওয়াটার বাইকিং, বীচ বাইকিং, কক্স কার্নিভাল সার্কাস শো, দরিয়া নগর ইকোপার্ক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিমির্ত অসংখ্য স্থাপত্য, ফিউচার পার্ক, শিশুপার্ক এবং অসংখ্য ফোটোসুট স্পট। এখানে উপভোগের জন্য রয়েছে নাইট বীচ কনসার্ট । সমুদ্র সৈকতকে লাইটিং এর মাধ্যমে আলোকিত করার ফলে এখানে রাতের বেলায় সমুদ্র উপভোগের সুযোগও রয়েছে।
কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি স্থানে ৪টি ভাস্কর্য (সাম্পান, স্টার ফিস, রূপচাঁদা, ঝিনুক ভাস্কর্য) স্থাপন করা হয়েছে। কক্সবাজারের হাজার বছরের ঐতিহ্য লালদিঘী, গোলদিঘী ও বাজারঘাটা পুকুর। কক্সবাজারের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণের চিত্ত-বিনোদনের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয় । ওয়াকওয়ে, মসজিদ সংস্কার, স্যুভিনিয়র শপ, কমিউনিটি বিল্ডিং, স্ন্যাক্স বার, ট্যুরিস্ট ডেক্স, ট্যুরিস্ট তথ্য কেন্দ্র, সাইকেল পার্কিং স্ট্যান্ড, সুপরিসর পাবলিক টয়লেট, ল্যান্ডস্কেপিং, এম্পিথিয়েটার, ড্যান্সিং ওয়াটার ফাউন্টেন্ট, লাইব্রেরী ইত্যাদি সহকারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের জন্য বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজারে বিভিন্ন উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাস করে যা শহরটিকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময়। এইসব উপজাতিদের মধ্যে রাখাইন সম্প্রদায় প্রধান। কক্সবাজার শহর ও এর অদূরে অবস্থিত রামুতে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বৌদ্ধ মন্দির। কক্সবাজার শহরে যে মন্দিরটি রয়েছে তাতে বেশ কিছু দুর্লভ বৌদ্ধ মূর্তি আছে। এই মন্দির ও মূর্তিগুলো পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণই বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে বিখ্যাত।
পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ যে কয়টি বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এটি বিশ্বের একমাত্র দীর্ঘতম ও অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। যা আর পৃথিবির কোথাও নেই। ১২০ কি:মি দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমুদ্র সৈকতের চেয়ে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হওয়ায় এখানে পর্যটকদের সমাগম সবচেয়ে বেশি এবং এর রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক সময়ে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার নিয়েছে নানামুখি উদ্দ্যোগ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বের বুকে এক অনন্য পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন একের পর মহা পরিকল্পনা। কক্সবাজার বিমান বন্দর রানওয়ে সম্প্রসারন কাজের উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তজাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে, যার কাজ শেষ হলে দেখা মিলবে সমুদ্রের বুক ছুয়ে অবতরন করছে বিমান। বিমানবন্দরটির প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে হবে, যা রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের চেয়েও বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইতের বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৪ এর মত বড় আকারের বিমানগুল অবতরন করতে পারবে এবং এর ফলে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার পথ সুগম হবে। বহির্বিশ্বের পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজে হাত দিয়েছে সরকার। তাছাড়া কক্সবাজারকে রেল সংযোগের সংগে যুক্ত করার কাজ চলমান আছে। এটি শেষ হলে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কক্সবাজার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বারবার ভ্রমনে আসতেন কক্সবাজারে। সঙ্গে থাকত জাতির জনকের পরিবার। সে সময় আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বেশ কয়েকবার জাতির জনকের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমনে এসেছিলেন। বর্তমানে কক্সবাজার ঘিরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার কাজ করছে।
ঢাকা থেকে ৪২৫ কিঃ মিটার ও চট্টগ্রাম তেকে ১৫৬ কি:মি দূরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের অবস্থান। এ জেলার রয়েছে গৌরবময় অতীত ইতিহাস। কক্সবাজারের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে মোগল, পর্তুগিজ, আরকান, বৃটিশরা এখানে এসে অবস্থান করেছে এবং কক্সবাজারের উন্নয়ন সাধন করেছে। ১৭৭৩ সালের দিকে ক্যাপটেন হিরামকক্স কক্সবাজারে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এ অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নে কাজ করেন। কক্সবাজারের আদি নাম ছিল পালংকি। ক্যাপ্তেন কক্স ১৭৯৯ সালে মৃত্যুবরন করলে তার নামানুসার পালনকি নাম পরিবর্তন করে কক্সবাজার নামকরন করা হয়।
তারপর মুলত ১৯৪৭- এ ভারতভাগের পর মহকুমা হিসেবে স্বীকৃত। কক্সবাজার প্রথম মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান হন ক্যাপ্টেম এডভোকেট ফজলুল করিম। তিনিই সৈকত ধরে ঝাউবন লাগিয়ে এটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে তৈরি করেন। মুলত; বম্বে ও করাচি সি-বিচের মত পর্যটকরা যেন সী বিচ উপভোগ করতে পারে সে চেষ্টা করেন। ষাটের দশকের দিকে সড়ক ব্যবস্থা চালু হলে ধীরে ধীরে হোটেল মোটেল চালু হতে থাকে। নব্বই এর দশকের পর পুরোদমে কক্সবাজারের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়, যা ২০১০ সালের পর এসে গতি পায়। বর্তমানে কক্সবাজার হোট বড় অনেক হোটেল, কর্টেজ, রিসোর্ট, রেস্ট হাউসসহ বেশকিছু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
কক্সবাজার হল বাংলাদেশের পর্যটনের রাজধানী।যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, অবকাঠহামোগত উন্নতির কারনে কক্সবাজারে এখন সারা বছর পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে। এখন আর কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প শীতকাল কেন্দ্রীক নয়। সারা বছর পর্যটকের ভীড় লেগেই থাকে এখানে। তবে যেকোন উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটকের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদ, বাংলা নববর্ষ, ইংরেজি নববর্ষ, যেকোন বড় ছুটির উপলক্ষ হলে কক্সবাজারে ঢল নামে অসংখ্য পর্যটকের, যা কোন সময় ধারন ক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ছাড়াও এখানে আছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা। বিভিন্ন উপজাতি বা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাসে বৈচিত্র্যময় এ জেলার জনপ্রিয় স্থানগুলোর মধ্য উল্লেখযোগ্য হল লাবণী বীচ, সুগন্ধা বীচ, কলাতলি বীচ, হিমছড়ি, ইনান্যি বীচ, মেরিন ড্রাইভ রোড, সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালী, সোনাদিয় দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি। কক্সবাজারে একজন পর্যটক যেমন একদিকে পাহাড়ে ঘেরা সবুজ প্রকৃতি দেখতে পারবেন, তেমনি অন্যদিকে উপভোগ করতে পারবেন বিস্তীর্ণ সমুদ্রের বেলাভুমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে- যা দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।
- ১বিএনপি নব্য স্বৈরাচার হওয়ার পথে হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম
- ২ডিজিটাল ট্রেড ও ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তায় একাধিক নতুন বিধান
- ৩স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে: জিয়াউদ্দিন হায়দার
- ৪আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন কারাগারে
- ৫পাবনায় যমুনা ব্যাংকের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী, সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ
- ৬মৌলিক প্রশিক্ষণ নেওয়া ৫৬ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি
- ৭ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করল ব্র্যাক ব্যাংক
- ৮আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
- ৯সিরাজগঞ্জে নদীভাঙন কবলিতদের পাশে জেলা প্রশাসক
- ১০২০২৬ সালের মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ১জবির নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে ভয়ংকর নীলনকশা!
- ২নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ী, উদ্ধারের দুই দিন পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’
- ৩বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
- ৪চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
- ৫সরকারি বীজ খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড
- ৬শুধু নিরাময় নয়, রোগ প্রতিরোধে মনোযোগ দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৭নবীনগর উপজেলা পরিষদে মাতৃদুগ্ধ কর্নার ও নারীদের নামাজের স্থান চালু
- ৮টেকসই অর্থায়নে উল্লম্ফন, কমেছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ
- ৯বাকৃবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
- ১০একটি সাক্ষরের ভুলে ভেঙে গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন





পাঠকের মতামত