বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৭:১৫ এএম , আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬ ১০:১৭ পিএম
  • টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ১৬,৩১১ কোটি টাকা
  • সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন কমেছে ১,৭৮৪ কোটি টাকা
  • টেকসই কৃষিতে অর্থায়ন কমেছে ২,৩৯৬ কোটি টাকা

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা। ঝুঁকিগুলো শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) টেকসই অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়লেও কমেছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে টেকসই প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি ২ লাখ টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে টেকসই প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ১৬ হাজার ৩১১ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে টেকসই খাতে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করেছে ৯৭ হাজার ৫৫৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং এ খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।

টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও চলমান ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

এদিকে, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এ খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ দেওয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানদণ্ডে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, পরিবেশবান্ধব তথা সবুজ প্রকল্পে চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। আর তিন মাস আগে, অর্থাৎ গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৮০ কোটি ৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে সবুজ প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন কমেছে ১ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সবুজ প্রকল্পে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৬২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এ খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ৫৩৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেকসই কৃষিতে মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন কমেছে। মার্চ শেষে এ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এ খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬২৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মার্চ প্রান্তিকে টেকসই কৃষিতে অর্থায়ন কমেছে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস বলেন, সবুজ প্রকল্প ( গ্রিন প্রোজেক্টস): টেকসই ও সবুজ প্রকল্পে ব্যাংক ঋণ দেওয়া ইতিবাচক হলেও এই নামের সুযোগ নিয়ে যেন ভুয়া প্রকল্প সাজিয়ে অর্থ আত্মসাৎ না হয়, সেজন্য কঠোর যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনির প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ কমে, যা ব্যবসার টেকসই সাফল্য নিশ্চিত করে। দেশে ঋণ পেতেও সুবিধা কারণ আমরা সবাই চাই সবুজ-টেকসই প্রকল্প গড়ে উঠুক। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান কেবল নামকাওয়াস্তে সবুজ প্রকল্পের প্রচার দেখিয়ে বা সামান্য পরিবেশবান্ধব কাজ করে বিশাল পরিমাণ সহজ ঋণ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এটিকে কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। প্রকৃত পরিবেশবান্ধব প্রকল্প কোনটি এবং কোনটি ভুয়া, তা সঠিকভাবে প্রপার ইনভেস্টিগেশন ও স্ক্রুটিনির মাধ্যমে চিহ্নিত করা জরুরি।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রপ্তানি খাতে নতুন নীতিমালা ডিজিটাল ট্রেড ও ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তায় একাধিক নতুন বিধান

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পৃথক অধ্যায় যুক্ত সেবা রপ্তানিতে ইএক্সপি ফর্মের বাধ্যবাধকতা নেই ডিজিটাল নথির স্বীকৃতি পেল ...