জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৪:১৭ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রুশনা আক্তার দম্পতির সন্তান রেশমি আক্তার সুমাইয়া। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। পুরো বিদ্যালয় থেকে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, রেশমি তাদের একজন।

পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিন বোনের মধ্যে রেশমি কনিষ্ঠ। অর্থাভাবে বড় বোন উর্মি আক্তার পিনকি, যিনি ডিগ্রি শিক্ষার্থী এবং মেজো বোন প্রমি আক্তার যিনি একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, দু বোনের পড়াশোনা প্রায় এক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়।

রেশমির মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তার বাবা দিনমজুরি করে, এমনকি অনেক সময় না-খেয়ে থেকেও মেয়ের স্কুলের বেতন ও পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। মা রোশনা আক্তার সংসারের কোনো কাজ না দিয়ে রেশমিকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন।

রেশমি আক্তার সুমাইয়া বলেন, “আমি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। বাবা-মার ত্যাগের পাশাপাশি কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষ্ণ পদ শীল ও শ্যামল কুমার সিংহ স্যারের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। তাঁরা আমাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন এবং সহায়কের বই কিনে দিয়েছেন। বাবার কষ্ট দেখে ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার ইচ্ছা জেগেছে, তাই আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু এই মুহুর্তে ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো টাকা আমার পরিবারের নেই।”

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ বলেন,”পাঁচ সদস্যের পরিবারে আমি একাই উপার্জনক্ষম। দিন আনি দিন খাই, সামান্য ভিটামাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। অভাবের কারণে বড় দুই মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করতে হয়েছে। রেশমির ফলাফলে আমরা খুব খুশি, কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি আর বই-খাতা কেনার টাকা কীভাবে জোগাড় করব বুঝতে পারছি না। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেন, তবে মেয়েটার স্বপ্নটা বেঁচে যেত।”

কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, “রেশমি অত্যান্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী একটি মেয়ে। চরম দারিদ্রের কষাঘাতের মধ্যেও সে যে একাগ্রতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের গৌরব। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে রেশমি ভবিষ্যতে তার স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে।”

রেশমির পরিবার জানায়, অর্থাভাবে তার বড় দুই বোনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন রেশমির কলেজে ভর্তি, বই-খাতা ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। রেশমির স্বপ্ন কি আদৌ পূরন হবে নাকি স্বপ্ন পূরণের আগেই সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যাবে সে বিষয়গুলো কুড়িয়ে কুড়িয়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ফুলবাড়িয়ায় ইকো পার্ক স্থাপনের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনে ইকো পার্ক স্থাপনের প্রতিবাদে ঘন্টাব্যাপী মানববব্ধন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার (১৯ ...

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ ...

চরফ্যাশনে শিক্ষকসংকটে টি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চরফ্যাশন সরকারি টি.বি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চরম শিক্ষক ...

মিষ্টিতে পোকা ও অতিরিক্ত সেবামূল্য: চাঁদপুরে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোড ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণ ও মিষ্টিতে ...