জাহাঙ্গীর আলম আনসারী, সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৭:৫০ এএম , আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৯:৫৭ পিএম

দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে সুনামের সাথে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার হিসেবেও ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয় এস আলম। এতে করে দুর্বল হয়ে পড়ে ব্যাংকটি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলমের কবল থেকে মুক্ত হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি আবার ঘুরে দাড়াতে শুরু করে। আমানত এবং রেমিট্যান্স সংগ্রহে এখনো ব্যাংকটি শীর্ষ অবস্থানে আছে। ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষি, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের কাছে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রদান, পরিবেশবান্ধব ও উৎপাদনমুখী টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি, সুশাসন, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল রূপান্তরসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আলতাফ হুসাইন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছে বাণিজ্য প্রতিদিনের অর্থনৈতিক প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম আনসারী।

বাণিজ্য প্রতিদিন: সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে তারল্য ও আমানত নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান তারল্য, আমানত সংগ্রহ এবং ঋণ বিতরণের অবস্থা কী?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যেও ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে নতুন করে কোন ধরণের তারল্য সহায়তা না নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম সফলভাবে করে যাচ্ছি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা বিচক্ষণ তারল্য ব্যবস্থাপনা বজায় রেখে উৎপাদন, বাণিজ্য, এসএমই ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালনা করছি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই সাফল্যের মূল কারণ কী এবং এই অবস্থান ধরে রাখতে আপনারা কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করেন?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: বাংলাদেশের প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আস্থা, দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, দ্রুত ও নিরাপদ সেবা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ হাউস ও ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সুদৃঢ সংযোগই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর রেমিট্যান্স সেবা আরও সম্প্রসারণ, নতুন প্রবাসী বাজারে সেবা বিস্তার, সেবার গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহে আমাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এমনকি আমরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।

“ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যেও ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে নতুন করে কোন ধরণের তারল্য সহায়তা না নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম সফলভাবে করে যাচ্ছি”

বাণিজ্য প্রতিদিন: বর্তমানে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব সেবা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ বা প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলো কী কী?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী করতে ইসলামী ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত ও সহজলভ্য সেবার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেলফিন-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স গ্রহণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে সমন্বিত ডিজিটাল সংযোগ এবং দেশের সর্ববৃহৎ শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা প্রবাসীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করছি। একই সঙ্গে নতুন প্রবাসী গন্তব্যে সেবা সম্প্রসারণ, গ্রাহক-অভিজ্ঞতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী ডিজিটাল সমাধানের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে আরও বেশি রেমিট্যান্স আকৃষ্ট করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: গত জুন মাসে হঠাৎ করে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা কমে গিয়েছিল। কী কারণে এটা হয়েছিল বলে মনে করেন?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসভিত্তিক কিছু ওঠানামা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার, প্রবাসীদের আয়ের প্রাপ্যতা এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রচার-প্রোপাগান্ডা কারণে স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। গত জুনে কয়েকদিন এমন একটি সাময়িক পরিস্থিতির প্রভাব দেখা গেলেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অব্যাহত আস্থা, আমাদের বিস্তৃত বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং দ্রুত সেবার ফলে ইসলামী ব্যাংক অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও দেশের রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ অবস্থানে ফিরে এসেছে। এটিই আমাদের সেবার ধারাবাহিকতা ও গ্রাহকদের আস্থার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে আপনারা কী ধরণের উদ্যোগ নিয়েছেন?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করে আমরা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছি, নিয়মিত তদারকি, গ্রাহকভিত্তিক পুনরুদ্ধার কৌশল, আইনগত ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িকভাবে সক্ষম গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ অনুমোদনে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সুশাসনের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্পদের গুণগত মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ফিনটেকের দ্রুত বিকাশের এই সময়ে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করছে এবং গ্রাহকদের জন্য কী নতুন সুবিধা আনছে?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: ডিজিটাল ব্যাংকিংকে আমরা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছি। তাই সেলফিন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বাংলা কিউআর, এজেন্ট ব্যাংকিং, তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স, অনলাইন গ্রাহকসেবা এবং সরকারি ফি ও বিল পরিশোধসহ প্রযুক্তিনির্ভর সেবার পরিধি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনী ডিজিটাল সমাধানে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি এবং নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অগ্রাধিকার কী?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন ইসলামী ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এসএমই ইনভেস্টমেন্ট, রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস), উইমেন এন্ট্রাপ্রেনার্স ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (ডব্লিউইআইএস), অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট, অ্যাগ্রিকালচারাল ইমপ্লিমেন্টস ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (এআইআইএস), স্মল বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (এসবিআইএস), মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ইনভেস্টমেন্ট স্কিমসহ (এমআইআইএস) মোট ২৯টি গ্রাহক বান্ধব বিশেষায়িত বিনিয়োগ স্কিমের মাধ্যমে সহজ ও শরী’আহভিত্তিক অর্থায়ন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগ প্রদান নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলে দেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করা।

বাণিজ্য প্রতিদিন: দেশের রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে ইসলামী ব্যাংক কতটা ভূমিকা রাখছে? বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই খাতে আপনারা কীভাবে ঝুঁকি মোকাবিলা করছেন?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ইসলামী ব্যাংক অন্যতম শীর্ষ ট্রেড ফাইন্যান্সিং ব্যাংক। ২০২৫ সালে আমরা প্রায় ৫৯,৬১৪ কোটি টাকার আমদানি এবং ৩১,৫০৪ কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করেছি, যা যথাক্রমে দেশের মোট আমদানি ও রপ্তানির ৭.১৭% এবং ৫.৩৫%। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমরা শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, সতর্ক ঝুঁকি মূল্যায়ন, শরিয়াহসম্মত ট্রেড ফাইন্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করছি। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্প, উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় আমদানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের কোন দিকগুলোকে আপনি সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি ইসলামী শরিয়ার ন্যায়বিচার (আদল), আমানতদারিতা, স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণ (মাসলাহাহ)-এর মৌলিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ব্যবস্থায় রিবা, গারার (অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা) ও জুয়াভিত্তিক লেনদেন (মাইসির) পরিহার করে বাস্তব সম্পদভিত্তিক বাণিজ্য, লাভ-লোকসানের ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়। তাই ইসলামী ব্যাংকিং শুধু একটি বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা নয়, বরং নৈতিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ব্যাংকের আর্থিক সূচক যেমন পরিচালন মুনাফা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: আমাদের অগ্রাধিকার হলো টেকসই, সুষম ও মানসম্পন্ন প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে আমানত ও রেমিট্যান্সভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, উৎপাদনমুখী ও মানসম্মত বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শ্রেণিকৃত বিনিয়োগ হ্রাসে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ করে মূলধন সক্ষমতা সুদৃঢ় করা, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং সুশাসনকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্য প্রতিদিন: দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখছেন? বিশেষ করে রেমিট্যান্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন কী?

মোঃ আলতাফ হুসাইন: আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন হলো ইসলামী শরিয়ার নীতির আলোকে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার হিসেবে ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা। রেমিট্যান্স আহরণে নেতৃত্ব ধরে রাখা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষি, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের কাছে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা আরও সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে আর্থিক অন্তভুক্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও উৎপাদনমুখী টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সুশাসন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও গ্রাহক আস্থাকে ভিত্তি করে আমরা দেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করলে নীতি সহায়তা নয়

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটসহ অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার না ...

ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন পাইওনিয়ার

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ (আইআইসি) ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন ...