নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:২৬ পিএম
  • আমানত বেড়েছে ৫৬৫ কোটি টাকা
  • লেনদেন বেড়েছে ৩৫৬৪ কোটি টাকা
  • হিসাব বেড়েছে ৭৫৮৮৭৮টি
  • এজেন্ট বেড়েছে ২৩৯টি
  • আউটলেট বেড়েছে ২৫৮টি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ এবং সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এজেন্ট ব্যাংকিং। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানত, লেনদেন, হিসাব সংখ্যা, এজেন্ট ও আউটলেট সংখ্যার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত করা, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রান্তিক অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিয়ে আমানত বেড়েছে ৫৬৫ কোটি টাকা।

এসব আমানতের মধ্যে শহরের এজেন্টগুলোর আমানত রয়েছে ৯ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং গ্রামের এজেন্টগুলোর আমানত রয়েছে ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে শহরের চেয়ে গ্রামের এজেন্টগুলোতে আমানত বেশি আছে ৩২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ দাড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকংয়ে লেনদেন বেড়েছে ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

তথ্য মতে, এসব লেনদেনের মধ্যে শহরের এজেন্টগুলোতে জুন প্রান্তিকে লেনদেন হয়েছে ২৫ হাজার ৭৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং গ্রামের এজেন্টগুলোতে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে শহরের চেয়ে গ্রামের এজেন্টগুলোতে জুন প্রান্তিকে লেনদেন বেশি হয়েছে ৯৪ হাজার ৬৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৮১টি। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩টি। সেই হিসাবে তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ১৮৪টি। আর জুন শেষে এজেন্ট সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪২৩টি। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্ট সংখ্যা বেড়েছে ২৩৯টি।

এছাড়া, চলতি বছরের মার্চ শেষে আউটলেটের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৩৩৯টি। আর জুন শেষে আউটলেটের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৯৭টি। সেই হিসাবে তিন মাসে আউটলেটের সংখ্যা বেড়েছে ২৫৮টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর আগের মার্চ প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ইউএনডিপির সহায়তায় বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন পায় বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। এরপর ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা জারির কিছুদিনের মধ্যে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। এরপর থেকে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সারাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করতে থাকে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আক্তার হোসেনের নিয়োগ বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার অবশিষ্ট ...

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...