আসিফ ইকবাল
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৪:০১ পিএম

যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে মো. গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। অথচ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা, ২০১২ অনুযায়ী নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করলে কোনো ব্যক্তির নিয়োগ অনুমোদনের সুযোগ নেই। এমনকি “বিশেষ বিবেচনায়” অনুমোদনেরও কোনো বিধান নেই।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা-সংক্রান্ত নথিতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কোথাও তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির তথ্য দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বিতর্কিত দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমা দেওয়া এমবিএ সনদেও সময়গত ও তথ্যগত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

প্রবিধানের শর্ত পূরণ হয়নি

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে রূপালী লাইফ মো. গোলাম কিবরিয়াকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে ওই বছরের ২৮ আগস্ট তার নিয়োগে অনুমোদন দেয় আইডিআরএ।

নিয়োগ অনুমোদনের আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত (ফরম বীউনিক-গ)-এ গোলাম কিবরিয়া উল্লেখ করেন, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে প্রিলিমিনারি এবং ১৯৯৬ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত একটি এমবিএ সনদও দাখিল করেন।

কিন্তু বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা, ২০১২-এর প্রবিধি ৩(ক) অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেতে একজন প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ও এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রির অধিকারী হতে হবে।

সে হিসাবে গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রবিধানে নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে।

এমবিএ সনদে একাধিক অসঙ্গতি

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির এমবিএ সনদ অনুযায়ী সনদটি ইস্যু করা হয়েছে ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি। একই সনদে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ২০১১ সালেই এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অর্থাৎ নথির তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমবিএ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যা সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এ ছাড়া এমবিএ পাসের সাল নিয়েও রয়েছে স্পষ্ট অসঙ্গতি। দাখিল করা এমবিএ সনদে পাসের সাল ২০১১ উল্লেখ থাকলেও আইডিআরএতে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে তিনি এমবিএ পাসের সাল উল্লেখ করেছেন ২০১০। একই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা-সংক্রান্ত নথিতে দুই ধরনের তথ্য থাকায় বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

প্রবিধান অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে কোনো ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অনুমোদনের সুযোগ নেই। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেওয়া নথিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি থাকার পরও কী বিবেচনায় গোলাম কিবরিয়ার নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

আইডিআরএর বক্তব্য

জাল ও বিতর্কিত শিক্ষাসনদের বিষয়ে সম্প্রতি আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, “বিষয়টি আইডিআরএর নজরে রয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য যাচাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় এবং সিআইবির মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে সনদ যাচাই কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও অতীতে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা এবং নথিতে অসঙ্গতি থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে—সে বিষয়ে আইডিআরএর সুস্পষ্ট অবস্থান কী।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম কিবরিয়াকে ফোন করেন এই প্রতিবেদক। তবে তিনি কোনো কলই রিসিভ করেননি। এমনকি পরবর্তীতে কলব্যাকও করেননি।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সাত মাসে বেড়েছে ছয়গুণ জুলাইয়ে বাংলা কিউআরে পেমেন্ট ছাড়াল ১২৫০ কোটি টাকা

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে চালু হওয়া বাংলা কিউআর ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যাংক ও মোবাইল ...