নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:৪১ পিএম
  • আমানতে নারীদের অংশ নেমে ৩৩.৫%
  • নারীদের ঋণ হিসাব কমে ১৮.৪%
  • গৃহস্থালি ঋণে নারীদের অংশ ২০.৫%

দেশে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি কমছে। ব্যাংক ঋণে নারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি আমানতেও তাদের অংশ কমেছে। ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ ঘটলেও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে নারীদের প্রবেশাধিকার সেইভাবে বাড়ছে না। চলতি বছরের মার্চ শেষে নারীদের আমানত ৪ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে মোট স্থিতি আমানতের মধ্যে নারীদের অংশ রয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যেটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই হিসাবে মোট গৃহস্থলি আমানতের স্থিতির মধ্যে নারীদের অংশ কমেছে ৪ শতাংশ। তবে বছরের ব্যবধানে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ।

একইভাবে নারী মালিকানাধীন আমানত হিসাবের হারেও তেমন পরিবর্তন হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চে এ হার দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে হিসাব বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। এবং ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমানত ও ঋণে নারীদের অংশগ্রহণের মধ্যে বাড়তে থাকা বৈষম্য কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন। এর মধ্যে রয়েছে জামানতের কঠোর শর্ত, ব্যবসায়িক অর্থায়নে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং নারী উদ্যোক্তাদের উপযোগী আর্থিক পণ্যের ঘাটতি। নারীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া না হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সামগ্রিক অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থায়নে লিঙ্গ বৈষম্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে গৃহস্থালি খাতে মোট ১২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা আমানতের বিপরীতে নারীদের অংশগ্রহণ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে; উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঋণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মোট ঋণের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

আর ২০২৬ সালের মার্চে নারীদের ঋণ হিসাবের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ২০ শতাংশ। এ সময়ে গৃহস্থালি ঋণ হিসাবের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজারে।

তথ্য মতে, ঋণের পরিমাণের হিসাবে ২০২৬ সালের মার্চে গৃহস্থালি খাতে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা স্থিতি ঋণের মধ্যে নারীদের অংশ ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মার্চের ২০ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহস্থালি খাতের স্থিতি ঋণে নারীদের অংশ ছিল ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নারীদের সঞ্চয়ে অংশগ্রহণ প্রায় স্থবির, অন্যদিকে ঋণে তাদের অংশ কমছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উন্নতি হলেও উৎপাদনশীল অর্থায়নে নারীদের প্রবেশাধিকার এখনও সীমিত। নারী উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে প্রবেশ সহজ করতে ব্যাংক ও নীতিনির্ধারকদের নারী-কেন্দ্রিক আরও বেশি আর্থিক পণ্য চালু করতে হবে, জামানতের ক্ষেত্রে নমনীয়তা আনতে হবে এবং ঋণ গ্যারান্টি স্কিম আরও শক্তিশালী করতে হবে। নারীদের ঋণপ্রাপ্তি বাড়ানো শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয় নয়; এটি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও অন্যতম চালিকাশক্তি।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রপ্তানি খাতে নতুন নীতিমালা ডিজিটাল ট্রেড ও ফ্রিল্যান্সারদের সহায়তায় একাধিক নতুন বিধান

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পৃথক অধ্যায় যুক্ত সেবা রপ্তানিতে ইএক্সপি ফর্মের বাধ্যবাধকতা নেই ডিজিটাল নথির স্বীকৃতি পেল ...