জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৮:৩৫ পিএম

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা কিশোর রাফিজ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার হাবিবপুর মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা বাজারপাড়া গ্রামের মৃত মুরজুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা থানার চিলাভালকী গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ আমেনা খাতুন (৫৬)-এর নাতি রাফিজ মিয়াকে গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।

একই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে। এ সময় রাফিজের কান্নাজড়িত কণ্ঠ শোনানোর মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় গত ১০ জুন মামলা নং-১১ দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৮/৩০ ধারায় রুজু করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)-এর সাব-ইন্সপেক্টর আশিকুর রহমান, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রজিবুল হক ও আরিফুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ হোসেন আলীর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন হাবিবপুর মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে রাফিজকে ফোন করে ডেকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। এরপর রাফিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল করে তার চিৎকার শোনানো হয় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে অপহরণকারীরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে। পরে মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

ঘটনার আট দিন পর, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুর থেকে রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আলোচিত এ হত্যা মামলায় মোট তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সাংবাদিক জোবাইয়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের উলিপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্টার নিউজ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ ...

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে চকরিয়ায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

‘জীবনের টেকসই সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, কার্যকর উদ্যোগসমূহকে করি বেগবান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ ...

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে নরসিংদীতে ১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি প্রদান

গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ...

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী আনিসুর রহমান

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ মুহাম্মদ আনিসুর রহমান আসন্ন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ...