
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পালন করা হচ্ছে দিবসটি। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশ-এর উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করে প্রতিবছর পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সুন্দরবন বিনাসী সকল ধরনের অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে র্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বরাবরের মতো এবারেও সুন্দরবন দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হচ্ছে খুলনায়। দিবসটি উপলক্ষে বন বিভাগ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সুন্দরবন পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এ বনের ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে এবং বাকি ৩৮ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বর্তমানে সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা জেলায় এ বনের অবস্থান। সুন্দরবনের অধিকাংশ গাছপালা ম্যানগ্রোভ ধরনের। উদ্ভিদবিজ্ঞানী ডি প্রেইন সুন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে বলে উল্লেখ করেন।
পৃথিবীতে এ পর্যন্ত সন্ধানপ্রাপ্ত ৫০টি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মধ্যে সুন্দরবনেই আছে ৩৫টি। সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩২০ প্রজাতির পাখি, ৮ প্রজাতির উভচর ও ৪০০ প্রজাতির মাছ। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার পৃথিবী বিখ্যাত। এছাড়া রয়েছে চিত্রা ও মায়া হরিণ ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে দৌরাত্ম্য বেড়েছে শিকারি আর পাচারকারী চক্রের। ফাঁদ পেতে ও গুলি করে শিকার করা হচ্ছে বাঘ ও হরিণ। প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হরিণের মাংস। মাংস ও চামড়াসহ ধরাও পড়ছেন শিকারিরা। সুন্দরবনের নদী ও খালগুলোতে বিষ দিয়ে মাছ শিকারেও চলছে মহোৎসব।
অবাধে বাঘ আর হরিণ শিকারের কারণে জীববৈচিত্র্যে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেছেন পরিবেশবিদরা। ২০৫০ সালের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ হারিয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ গোটা দেশের পরিবেশ। তাই এ বন রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এক সঙ্গে কাজ করতে হবে প্রকৃতিকে ভালোবেসে।
সুন্দরবন রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশকে রক্ষা করার কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে বলেছিলেন, আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য।
বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে যে সুন্দরবনটা রয়েছে, এইটা হলো ব্যারিয়ার। এটা যদি রক্ষা না হয় তাহলে একদিন খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকার কিছু অংশ এ পর্যন্ত সব এরিয়া সমুদ্রের মধ্যে চলে যাবে এবং এগুলো হাতিয়া-সন্দ্বীপের মতো আইল্যান্ড হয়ে যাবে। একবার যদি সুন্দরবন শেষ হয়ে যায়, তো সমুদ্র যে ভাঙনের সৃষ্টি করবে, সেই ভাঙন থেকে রক্ষার উপায় আর নেই।
বিএইচ
- ১‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ২রপ্তানি খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম: বাণিজ্যমন্ত্রী
- ৩পলিথিন ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি
- ৪এনআরবিসি ব্যাংকে নবনিযুক্ত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের ওরিয়েন্টেশন
- ৫বাংলা কিউআরের প্রচারে সোনালী ব্যাংক
- ৬যমুনা ব্যাংকের এজিএম অনুষ্ঠিত
- ৭শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী
- ৮জাতীয় অধ্যাপক হলেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ
- ৯খাল খননের পাশাপাশি দখল-দূষণমুক্ত করতে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- ১০একযোগে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি
- ১আইএফআইসি ব্যাংকে ঋণের নামে লুটপাট: ‘নীরব’ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- ২চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী
- ৩ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ৩০ জুলাই
- ৪২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
- ৫লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
- ৬মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশা নিয়ে ফিরছেন জেলেরা
- ৭ফনিক্স ফাইন্যান্সের বোর্ড সভা ২৮ জুলাই
- ৮শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার
- ৯রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসি
- ১০নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু ২ আগস্ট





পাঠকের মতামত