প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৪ ১১:০৯ এএম , আপডেট: জুলাই ১, ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম

ফ্রান্সে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোট শেষ হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জয়ের কাছাকাছি কট্টর ডানপন্থিরা। প্রথম ধাপের ভোটে ডানপন্থিদের বাজিমাত। অন্যদিকে ভোটে হতাশাজনক অবস্থানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোট।

বুথফেরত জরিপ বলছে, প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষ স্থানে থাকবে মেরিন লে পেনের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‌্যালি (আরএন)। অপরদিকে ম্যাক্রোঁর জোট ২১ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। এছাড়া বামপন্থি দলগুলোর জোট পাচ্ছে প্রায় ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় পোলিং সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী, রোববারের নির্বাচনে আরএন পেয়েছে ৩৪.৫ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বামপন্থি নিউ পপুলার ফ্রন্ট অ্যালায়েন্স ২৮.৫ থেকে ২৯.১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আর ম্যাক্রোঁর জোট পেয়েছে ২০.৫ শতাংশ থেকে ২১.৫ শতাংশ ভোট। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ডানপন্থীরাই ভালো অবস্থানে রয়েছে। ফলে ফরাসি রাজনীতিতে তাদের আধিপত্য অনেকটা নিশ্চিত এবং তারাই ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে। কট্টোর ডানপন্থি মেরিন লে পেনের অভিবাসন বিরোধী ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) সমর্থকরা ইতোমধ্যেই জয়ের উল্লাস শুরু করে দিয়েছেন। মেরিন লে পেন এর আগে তার সমর্থকদের বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এদিকে জয় অনেকটা নিশ্চিত জেনেই আরএন পার্টির ২৮ বছর বয়সী নেতা জর্ডান বারডেলা তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, যদি ফ্রান্সের জনগণ আমাকে ভোট দেন তবে আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই আমি।

এর আগে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে চরম ডানপন্থিরা প্রথম ধাপের নির্বাচনে কখনোই জয়লাভ করতে পারেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম কোনো ডানপন্থি দল হিসেবে হয়তো তারাই ফ্রান্সের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। দেশটির প্রবীণ ভাষ্যকার বলেছেন, এটা সম্ভবত কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা হতে যাচ্ছে।

পার্লামেন্টের ৫৭৭ আসনের মধ্যে ২৮৯টিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চান মেরিন লে পেন এবং জর্ডান বারডেলা। দ্বিতীয় দফার ভোট হলেই স্পষ্ট হবে যে, তারা আসলে কতটি আসনে জয়লাভ করবেন। আগামী রোববার দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বিপাকে পড়বে আরএন পার্টি। ফলে অভিবাসন, ট্যাক্স কমানো এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে তাদের যেসব পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

আগাম এই নির্বাচন নিয়ে ম্যাক্রোঁর মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ২০২৭ সালের আগে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থীদের অগ্রগতিতে শঙ্কিত হয়ে নিজেদের কর্ত্বত্ব টিকিয়ে রাখতেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন মাক্রোঁ।

দেশটিতে দীর্ঘদিনের ইতিহাস বলছে, ভোটাররা কট্টর ডানপন্থিদের আগে বেছে নেয়নি। কিন্তু এবার পুরো পরিস্থিতিই পাল্টে গেছে। দেশটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ডানপন্থিদের প্রতিই সমর্থন দেখাচ্ছেন ভোটাররা।

বামপন্থি জোট এবং প্রেসিডেন্টের দল আশা করছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা বুঝে একে-অপরের প্রার্থীকে ভোট দিলে আরএন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। রাফায়েল গ্লুক্সমান নামে বামপন্থি জোটের এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘ফ্রান্সেকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের হাতে সাত দিন সময় আছে।’

ফ্রান্সের অসাধারণ গুরুত্ববহনকারী এবং মেরুকরণের এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাব সংস্থার হিসেবে ভোটের হার ছিল ৬৭.৫ শতাংশ। নিয়মিত সংসদীয় নির্বাচনে ১৯৮১ সালের পর এটাই ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি ভোটের হার।

এদিকে শত শত বামপন্থী ভোটারকে প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক এ জড়ো হতে দেখা গেছে। তারা আরএন পার্টির সাফল্যে ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন।

‌এম পি

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইরানকে দুর্বল ও হরমুজে নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন ও ইরানকে দুর্বল করার মিশনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য ...

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ইন্টারসেপ্টর মিসাইল শেষ হওয়ার শঙ্কায় ইরানে মার্কিনিদের হামলা বন্ধ

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ হামলা চালানোর পর গত দুইদিন ধরে হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ...

‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা শুভেন্দুর

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ...