
দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতি বছরই বাড়ছে ড্রাগনের আবাদ। গত পাঁচ বছরে এ উপজেলায় ড্রাগন ফলের আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৫ গুণ। ড্রাগন আবাদে ঝুঁকছেন শিক্ষিত যুবকরাও। ফলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমছে, অন্যদিকে চাষীরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে মিরসরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ড্রাগন আবাদ হয় মাত্র ৫০ শতক জমিতে। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক একর ২০ শতকে। ২০২৩ সালে ড্রাগন আবাদ হয় এক হেক্টর জমিতে, ২০২৪ সালে এক দশমিক আট হেক্টর জমিতে ও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হেক্টরে। হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ড্রাগন আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ৮২ গুণ। কৃষি অফিস বলছে, মিরসরাইয়ের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। এছাড়া ড্রাগন চাষে খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি বেকার যুবকরাও ড্রাগন চাষে ঝুঁকছে।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে তিন বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন একটি এগ্রো ফার্ম। নজরুল ইসলাম নাসিদ, সৈয়দ আকরাম হোসেন মিশেল ও সাইদুল ইসলাম ইমন ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ জমিতে ৯৫টি পিলার বসিয়ে এক হাজার ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তাদের বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে রঙিন ড্রাগন ফল। সম্প্রতি উঁচুনিচু পাহাড়বেষ্টিত ড্রাগন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমারোহ। সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে হাজারো ড্রাগন ফলের গাছ। গাছে সবুজ পাতার মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে গোলাপি, লাল আর সবুজ ড্রাগন। চাকরির আশায় বসে না থেকে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন আমিগো এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নার্সারি। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন আকারভেদে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১শ-২৫০ টাকায়।
উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম নাসিদ বলেন, ২০২৪ সালে বাগান শুরুর এক বছরের মধ্যে আমরা ফলন পেয়েছি। এবার প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রির আশা করছি। উঁচু জমি থাকলে যে কেউ সহজেই ড্রাগন আবাদ করতে পারবে। পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন দেখে এবার আমরা ১৩৬ শতক জমিতে ১০ হাজার চারা লাগাচ্ছি।
স্থানীয়রা জানান, সমুদ্র, নদী ও পাহাড়বেষ্টিত মিরসরাই উপজেলায় ড্রাগন চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে পাহাড়বেষ্টিত এলাকায় এখন অনেক শিল্পগ্রুপও উঁচু জমিতে ড্রাগনের আবাদ করছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, এবার উপজেলায় তিন হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে। অথচ ২০২১ সালে ছিল মাত্র ৫০ শতক জমি। ড্রাগন একটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল, যা থেকে বছরে তিন-চারবার ফলন পাওয়া যায়। কৃষি অফিস থেকে চাষীদের আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও চারা দেয়া হচ্ছে। এলাকার আবহাওয়া ভালো ও রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি শিক্ষিত যুবকরাও ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসছে। ফলে প্রতি বছরই এ আবাদ বাড়ছে।
প্রতাপ চন্দ্র আরো বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক শিক্ষিত ও বেকার যুবক এগিয়ে আসছেন। মিরসরাইয়ের প্রতিটি কৃষককে হরমোন ব্যবহার ছাড়াই ফল উৎপাদন করতে আমরা উদ্ধুদ্ধ করি এবং হরমোন ছাড়াই ফল উৎপাদন করছেন কৃষকরা।
এম জি
- ১মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: ডিআইজি
- ২ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৩লোকসানী শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর এক মাসে বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
- ৪স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম
- ৫পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৬পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৭বন্যাকবলিত ৩ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ৮সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- ৯‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ১০মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
- ১এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ২একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৩ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৪এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৫মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৬শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৭সবার জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটিমন্ত্রী
- ৮অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ৯আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?
- ১০স্থানীয় সরকার কার্যকর হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে





পাঠকের মতামত