
ব্যাংকের ব্যস্ত কর্মদিবসের ক্লান্তি আর চারপাশের ফাইলের স্তূপের মাঝে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে বন্ধু মোস্তাফিজের উত্তেজিত কণ্ঠ- “রেজাল্ট দিয়েছে!” কাঁপাকাঁপা হাতে রেজাল্ট শিটের দীর্ঘ তালিকায় নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি যখন খুঁজে পেলেন, মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গিয়েছিল। বলছিলাম ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের-(কুবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাপ্পু সরকারের কথা। বিবিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্তির এই সাফল্যের খবরটি তার কাছ কেবল একটি চাকরির সংবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল এক বোহেমিয়ান কিশোরের প্রথাগত নিয়মের মূলে কুঠারাঘাত করার গল্প।
একজন ‘বাস্তববাদী’ মানুষ হিসেবে পাপ্পু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে অভ্যস্ত, তবুও সেই মুহূর্তে চোখ ভিজে এসেছিল। আজকের এই শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত মানুষটির অতীতের সাথে বর্তমানের বৈপরীত্য আকাশ-পাতাল। যে কিশোর একসময় ক্লাসরুমের চার দেয়াল থেকে মুক্তি পেতে স্কুল পালাত, সেই আজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরার দায়িত্বে। বিসিএস মানেই যে কেবল শৈশব থেকে তকমা লাগানো ‘ফার্স্ট বয়’দের রাজত্ব এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা এক অদম্য শিক্ষার্থী কুবির পাপ্পু সরকার।
নিজের সাফল্যের এই ধারাটি তুলে ধরে পাপ্পু বলেন‚‘লক্ষ্য যখন ‘কিছুই না করা’ তখনও জীবনে অনেক কিছু করা সম্ভব।’
সমাজ বিসিএস ক্যাডারদের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে দেখতে অভ্যস্ত, শৈশব থেকেই শান্ত, সুবোধ এবং অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু এই বিজয়ীর শৈশব ছিল এর ঠিক উল্টো। তাঁর ভাষায়, তিনি ছিলেন ‘পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান’। স্কুল পালানো ছিল তাঁর নিয়মিত রুটিন আর জীবনের চরম লক্ষ্য ছিল ‘ভবিষ্যতে কিছুই না করা’।
পাপ্পু বলেন, “আমি আমার স্কুল লাইফ পর্যন্ত পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান স্বভাবের ছিলাম। প্রায় প্রতিদিন স্কুল পালাতাম। তখন আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল জীবনে কিছুই না করা।”
কারো অতীত যে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না এই বার্তাটাইর জলজ্যান্ত উদাহরণ পাপ্পু নিজেই । যিনি একসময় ক্লাসরুমকে ভয় পেতেন, তিনিই আজ শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এসে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এবং ‘ডিসিপ্লিনড’ হওয়ার সিদ্ধান্তই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।
বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী যে মরীচিকার পেছনে ছোটে, তা হলো কোচিং সেন্টার। কিন্তু এই প্রার্থীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি ছিল সাহসী ও ভিন্ন। প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির মাত্র মাস-খানেক পরেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, কেবল নিজের প্রচেষ্টায় বা ‘ইফোর্ট’ দিলেই সিলেবাস আয়ত্ত করা সম্ভব।
একটি পূর্ণকালীন ব্যাংকে কর্মরত থেকে বিসিএসের মতো ম্যারাথন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। প্রতিদিনের পেশাগত চাপ আর বিসিএসের বিশাল সিলেবাসের সমন্বয় করা কেবল সময়ের খেলা নয়, বরং এটি ছিল মানসিক শক্তির এক দীর্ঘ লড়াই।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন লেগে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ব্যাংক জব করেও নিয়মিত বিসিএস দিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি ধরে রাখাটাই অনেক কষ্টসাধ্য কাজ।”
এনজে
- ১ব্যাংকঋণের সুদের হারে লাগাম টানতে কমল নীতি সুদহার
- ২হজ ও ওমরাহ্ ফেয়ার-এ আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের স্টল উদ্বোধন
- ৩সুন্দরবন উপকূলের মিলির স্বপ্ন শুধু একটি ঘর
- ৪১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন আলমগীর!
- ৫দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান, স্বস্তি ফিরেছে হাজারো মানুষের চলাচলে
- ৬জুলাই সনদের সকল চুক্তি সংসদে বিএনপি পাশ করবে: জয়নুল আবেদীন
- ৭বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল
- ৮জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কয়রায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিক্ষোভ
- ৯বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না
- ১০সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী
- ১ক্যান্সার গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন চাঁদপুরের আবু আলী সিনা
- ২শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
- ৩সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনঃনিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন
- ৪আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে
- ৫চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকরের দাবিতে কমলগঞ্জে গণবিক্ষোভ
- ৬পাবনায় অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার; আটক ৫
- ৭এনসিপি নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন
- ৮বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন
- ৯শেরপুরে বিএনপি ছেড়ে দুই নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান
- ১০চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে যাত্রীবাহী বাস, নিহত ২





পাঠকের মতামত