বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬ ২:২৫ পিএম

ব্যাংকের ব্যস্ত কর্মদিবসের ক্লান্তি আর চারপাশের ফাইলের স্তূপের মাঝে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে বন্ধু মোস্তাফিজের উত্তেজিত কণ্ঠ- “রেজাল্ট দিয়েছে!” কাঁপাকাঁপা হাতে রেজাল্ট শিটের দীর্ঘ তালিকায় নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি যখন খুঁজে পেলেন, মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গিয়েছিল। বলছিলাম ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের-(কুবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাপ্পু সরকারের কথা। বিবিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্তির এই সাফল্যের খবরটি তার কাছ কেবল একটি চাকরির সংবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল এক বোহেমিয়ান কিশোরের প্রথাগত নিয়মের মূলে কুঠারাঘাত করার গল্প।

একজন ‘বাস্তববাদী’ মানুষ হিসেবে পাপ্পু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে অভ্যস্ত, তবুও সেই মুহূর্তে চোখ ভিজে এসেছিল। আজকের এই শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত মানুষটির অতীতের সাথে বর্তমানের বৈপরীত্য আকাশ-পাতাল। যে কিশোর একসময় ক্লাসরুমের চার দেয়াল থেকে মুক্তি পেতে স্কুল পালাত, সেই আজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরার দায়িত্বে। বিসিএস মানেই যে কেবল শৈশব থেকে তকমা লাগানো ‘ফার্স্ট বয়’দের রাজত্ব এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা এক অদম্য শিক্ষার্থী কুবির পাপ্পু সরকার।

নিজের সাফল্যের এই ধারাটি তুলে ধরে পাপ্পু বলেন‚‘লক্ষ্য যখন ‘কিছুই না করা’ তখনও জীবনে অনেক কিছু করা সম্ভব।’

সমাজ বিসিএস ক্যাডারদের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে দেখতে অভ্যস্ত, শৈশব থেকেই শান্ত, সুবোধ এবং অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু এই বিজয়ীর শৈশব ছিল এর ঠিক উল্টো। তাঁর ভাষায়, তিনি ছিলেন ‘পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান’। স্কুল পালানো ছিল তাঁর নিয়মিত রুটিন আর জীবনের চরম লক্ষ্য ছিল ‘ভবিষ্যতে কিছুই না করা’।

পাপ্পু বলেন, “আমি আমার স্কুল লাইফ পর্যন্ত পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান স্বভাবের ছিলাম। প্রায় প্রতিদিন স্কুল পালাতাম। তখন আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল জীবনে কিছুই না করা।”

কারো অতীত যে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না এই বার্তাটাইর জলজ্যান্ত উদাহরণ পাপ্পু নিজেই । যিনি একসময় ক্লাসরুমকে ভয় পেতেন, তিনিই আজ শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এসে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এবং ‘ডিসিপ্লিনড’ হওয়ার সিদ্ধান্তই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।

বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী যে মরীচিকার পেছনে ছোটে, তা হলো কোচিং সেন্টার। কিন্তু এই প্রার্থীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি ছিল সাহসী ও ভিন্ন। প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির মাত্র মাস-খানেক পরেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, কেবল নিজের প্রচেষ্টায় বা ‘ইফোর্ট’ দিলেই সিলেবাস আয়ত্ত করা সম্ভব।

একটি পূর্ণকালীন ব্যাংকে কর্মরত থেকে বিসিএসের মতো ম্যারাথন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। প্রতিদিনের পেশাগত চাপ আর বিসিএসের বিশাল সিলেবাসের সমন্বয় করা কেবল সময়ের খেলা নয়, বরং এটি ছিল মানসিক শক্তির এক দীর্ঘ লড়াই।

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন লেগে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ব্যাংক জব করেও নিয়মিত বিসিএস দিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি ধরে রাখাটাই অনেক কষ্টসাধ্য কাজ।”

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

একটি সাক্ষরের ভুলে ভেঙে গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের শূন্য আসনে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ...

ডিবেটিং এডুকেশন সোসাইটির নতুন সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সম্পাদক মহিউদ্দিন

দেশব্যাপী বিতর্কচর্চা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা সংগঠন ডিবেটিং এডুকেশন সোসাইটি ইন ...

বাকৃবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ...

পাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে প্রশাসনের বাধা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচী পালন করতে দেয়নি প্রশাসন। এর প্রতিবাদে ...

জুলাই আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: জাহিদুল ইসলাম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ...