
ক্ষমতা গ্রহণের সাড়ে তিনমাস পর চলতি মাসের ১৭ জুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের জন্য প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজারের জেলা শহরের মাটিতে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচির স্থান হিসেবে শুরুতে ঠিক করা হয় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া মাঠ ও রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ। ইতোমধ্যে মাঠ দুটি পরিদর্শনও করেছেন প্রশাসন ও দলের শীর্ষ নেতারা। তবে শেষ মুহুর্তে শ্রীমঙ্গলের স্থান ঠিক থাকলেও স্থান সঙ্কুলান ও নিরাপত্তা সঙ্কটের কারণে রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠের পরিবর্তে ঠিক করা হয় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। যে মাঠে ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
গত শনিবার সকালে হঠাৎ দলের তরফে ঘোষণা আসে স্থান পরিবর্তনের। এর পর ওই দিন মাঠ পরিদর্শন করেন পুলিশের সিলেট রেঞ্জ এর ডিআইজি ড. মোঃ জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন সহ প্রশাসন ও দলের শীর্ষ নেতারা। পরদিন রবিার জেলার নেতাদের নিয়ে মাঠ পরিদর্শনে আসেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।
এ সময় নাসের রহমান বলেন, আমরা তিনটি মেজর জিনিস দাবি করেছিলাম, আমাদের মেডিকেল কলেজ, আমাদের শসসেরনগর বিমানবন্দর, ও সরকারি কলেজকে বিশ্বদ্যিালয়ে রূপান্তর। উন্নয়ন যেগুলো হবে সেগুলো তার মতো করে চলবে। আমরা বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করব। তিনি বলেন, তিন মাস ক্ষমতায় আসার পর চারমাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার আসছেন। তিনি নিজ থেকেই এখানে আসছেন। আমরা যে দাবি-দাওয়াগুলো দিয়েছি এগুলো আমি উপস্থাপন করব ১৭ তারিখে।
এদিকে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ শাসনামলে জেলায় প্রভাবশালী একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকার পরও বিগত ১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো পুরো মৌলভীবাজার জেলা। চা শিল্প, পর্যটন, হাওর-বাওর উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাল ও নদী খনন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ জেলায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। বরং বড় প্রকল্পের নামে হরিলুট হয়েছে। অবহেলিত এ জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নও হয়নি। বিশেষ করে নাজুক অবস্থা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের। জেলার অধিকাংশ সড়কপথ খানাখন্দ আর ভাঙাচোরা আর ঝোপঝাড়ে ঠাঁসা। এসব বিষয় মাথায় রেখে দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে মৌলভীবাজারের সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বহুল প্রতিক্ষিত শসসেরনগর বিমানবন্দর চালু, ঢাকা থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত স্পেশাল ট্রেন চালু সহ কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, চা শিল্প, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ৫শ শয্যায় উন্নীত করা সহ মেডিকেল কলেজে রুপান্তর, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মৌলভীবাজার শহরের শেষপ্রান্ত অথাৎ জুগীডর পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জেলার সড়কপথ প্রশস্তকরণ, শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়ক চারলেন, মৌলভীবাজার-বড়লেখা সড়ক চারলেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন দলের নেতারা।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, বৃটিশ আমলে নির্মিত শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ চালু হলেও তাতে বাদ পড়ে যায় জেলা শহর। জেলা শহরকে কীভাবে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জেলার ৭ টি উপজেলা ও ৫ টি পৌরসভার জনগণ ঘুম থেকে উঠে আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল সহ নানা জরুরি প্রয়োজনে জেলা শহরে আসে। কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই শহরটা তিলোত্তমা শহর হিসেবে আজও গড়ে উঠেনি। মানুষের ব্যাপক আগমন আর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের কারণে দিনদিন চাপ বাড়ছে শহরের উপর, এ কারণে শহরকে মানুষের নিরাপদ চলার উপযোগী ও যানজট মুক্ত রাখতে বাইপাস সড়ক অত্যান্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জেলা শহরের পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। অধিকাংশ সড়ক ভাঙাচোরা, বিদ্যমান যে সড়কগুলো রয়েছে তাঁর বাহিরে বাড়েনি নতুন করে সড়কের সংখ্যা। আমরা সড়কের সংখ্যা বাড়ানো ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর কাছে তুলে ধরব।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার জনসভা ঘিরে পুরো শহর ও আশপাশের এলাকায় এখন সাজসাজ রব। গোটা জেলার মানুষ অধির আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আসছেন তাই শহরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুপাশের ঝোপঝাড় ও গাছের ডালপালা পরিস্কার সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় চলছে ধোয়ামোছা ও রঙের কাজ। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার স্থান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে দেড়হাজার বর্গফুটের বিশাল প্যান্ডাল ও মঞ্চ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে ঘিরে পুরো মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
টিআর
- ১এনএসইজেডে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি, তৈরি হবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম
- ২১৬ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: চট্টগ্রামে আইনমন্ত্রী
- ৩খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি
- ৪বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ৫অনেক বছর পরে মানিকগঞ্জবাসীর স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এসেছে: পর্যটন মন্ত্রী
- ৬নড়াইলে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
- ৭তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সময় বাড়াল বিএসইসি
- ৮জুলাই নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইবিতে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত
- ৯২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকা
- ১০মাদারীপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা
- ১সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ
- ২কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ৩চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
- ৪তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
- ৫বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- ৬সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৩৫
- ৭সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে
- ৮চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- ৯চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার বাবলু মারা গেছেন
- ১০হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল





পাঠকের মতামত