প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২২ ১:২০ পিএম
কুষ্টিয়া-পেঁয়াজ-kustia-piyaj

কুষ্টিয়া জেলায় এবার পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও ক্রমাগত দাম কমতে থাকায় পেঁয়াজ চাষিদের মুখের হাসি ম্লান হতে বসেছে। অব্যাহত দর পতনের কারণে চাষিদের উৎপাদন খরচ তুলে আনায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দাম কমতে কমতে খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে বাজারে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৮শ টাকায়। চাষিদের দাবি গত দুই বছরের তুলনায় এবার তাঁরা পেঁয়াজের দাম মণ প্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা কম পাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কুষ্টিয়া জেলায় এবার চলতি রবি মৌসুমে (১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ) পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এদিকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে ওঠার সাথে সাথে অব্যাহতভাবে দাম কমতে শুরু করেছে।

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমতে থাকায় এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার মত নিজেদের সক্ষমতা না থাকায় চাষিরা মাঠ থেকে মাত্র ১০-১২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় চাষিদের উৎপাদন খরচ তোলায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুমারখালী উপজেলার জোতমোড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ফরিদ শেখ জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর গড়ে প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও ৭০ থেকে ৮০ মণও পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিবহন বাবদ সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে হাটে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের ১০ থেকে ১৮ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

গত বছর এই সময় পেঁয়াজ ১২শ থেকে ১৫শ টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের হাট বসে প্রতি শুক্রবার কুমারখালী উপজেলার পান্টিতে। এই হাটে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪শ থেকে ৮শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় তামাক প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের কামারডাঙ্গা গ্রামের অন্তত ৪শ পরিবার এবার তাদের জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ওই গ্রামের আশীতিপর বৃদ্ধ পেঁয়াজ চাষি আব্দুস সাত্তার জানান, তামাক চাষ বাদ দিয়ে লাভের আশায় এই গ্রামের প্রায় সবাই এবার পেঁয়াজ চাষ করে। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম না থাকায় তাঁরা এখন চরম হতাশ। বাজারে এভাবে দাম কমতে থাকলে তাঁরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় (খামারবাড়ির) অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (ফসল) বিষ্ণুপদ সাহা জানান, বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে। এ অবস্থায় কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই তিনি বিক্রি না করে কৃষক পর্যায়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ফার্মেসিকে জরিমানা

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী তামিম মেডিকেল ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ...

কুড়িগ্রামে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫২ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ...

নালীতাবাড়ীতে অসহায় ২০০ পরিবারের পাশে দোস্ত এইড বাংলাদেশ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় ২০০টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ ...