জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬ ৯:৫৬ এএম

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রায় এক মাস পার হলেও শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গুরুতর ও সংকটাপন্ন রোগীরা। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিনেও সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৪ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই দিন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালের নবম তলায় ফিতা কেটে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পরও আইসিইউতে এখনো কোনো রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে। আইসিইউ চালুর জন্য কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া), মেডিকেল অফিসার, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, আইসিইউ টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ড বয় ও সুইপারসহ প্রায় ৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শেরপুরে আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত ময়মনসিংহ বা ঢাকায় নিতে হচ্ছে। এতে যেমন চিকিৎসা ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সময় ও চিকিৎসা ব্যয়, যা অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধনের পরও চালু না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইসিইউ সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলেই আইসিইউ ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। এতে শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষ নিজ জেলাতেই জরুরি নিবিড় পরিচর্যা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বেড়া উপজেলার ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ

মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি ...