রায়হানুল ইসলাম আকন্দ
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬ ৪:৫৯ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সেরার খালের ওপর নির্মিত একটি পুরোনো ব্রিজ দেবে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন গ্রামের হাজারো মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের এখন প্রায় সাত কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান (পটকা-বাউনী বাজার) আঞ্চলিক সড়কের সেরার খালের ওপর অবস্থিত ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নিচের অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। রডগুলো মরিচা ধরে বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর আগে নির্মিত ব্রিজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩৮ বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে খাল পুনঃখননের পর বর্ষার পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজের নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশের মাটি ও ইট সরে যায়। সম্প্রতি নিচের অংশ আরও দেবে যাওয়ায় ব্রিজটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ অংশে লাল পতাকা টানিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এতে দায়সারা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, পটকা, বাউনী ও হায়াতখারচালা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজ ব্যবহার করে উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করতেন। এছাড়া স্থানীয় পোশাক কারখানা প্রোস্টার অ্যাপারেলস লিমিটেড, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির শ্রমিক-কর্মচারী, হেরা পটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পটকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক ব্যবহার করতেন।

পটকা গ্রামের বাসিন্দা নাঈম বলেন, “সেরার খালের ব্রিজটি দেবে যাওয়ায় আমাদের সাত কিলোমিটার ঘুরে শ্রীপুর-বাউনী সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।”

হায়াতখারচালা গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, “ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় মানুষ আর পারাপার করতে পারছে না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।”

৬০ বছর বয়সী আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে এই ব্রিজটি দেখছি। এখন এর যে অবস্থা, তাতে দ্রুত মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

বাউনী গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, “ব্রিজটি মেরামতের জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগে ব্যবস্থা নিলে আজ এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না।”

স্থানীয় শিক্ষার্থী জুয়েনা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই কলেজে যাতায়াত করতাম। এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সাত কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।”

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, “অনেকদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, “ব্রিজের নিচের অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ব্রিজটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন খানজাহান আলী (রহ.) বিমানবন্দর প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রায় তিন দশক ...

মাদারীপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মাদারীপুর শহরের পুরাতন বিসিক এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ...

গাজীপুর জেলা শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শরীফুল ইসলাম সরকারকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং ...