
দীর্ঘদিন ধরে নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব এলাকার মানুষ। একের পর এক বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছপালা ও জীবন-জীবিকার অবলম্বন নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখে অসহায় সময় পার করেছেন তারা। প্রতিটি বর্ষা যেন তাদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন আতঙ্ক, নতুন অনিশ্চয়তা। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধে সারডোব এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন আশা—নিজেদের ভিটেমাটি ও ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বপ্ন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সহ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহীন শেখ রঞ্জু, জামিল আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন শুধু মাটি কিংবা ঘরবাড়ি কেড়ে নেয় না, এটি মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি, শিকড় এবং ভবিষ্যৎও ধ্বংস করে দেয়। বছরের পর বছর নদীর করাল গ্রাসে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। তাই সারডোব এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম কেবল একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবন, বসতভিটা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
বক্তারা আরও বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করা গেলে নদীভাঙনের ভয়াবহতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর ফলে স্থানীয় কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ নতুন করে নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সারডোবসহ জেলার সব নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বহু বছর ধরে তারা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছেন, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখেছেন। জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অসংখ্য পরিবার তাদের শেষ সম্বল—নিজেদের বসতভিটা ও ফসলি জমি—রক্ষা করতে পারবে। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ শুধু নদীর ভাঙন ঠেকাবে না, বরং মানুষের মনে ফিরিয়ে আনবে নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস।
সারডোবের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—এই কাজ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে পুরো অঞ্চলকে মুক্ত করা হয়। কারণ একটি ভিটেমাটি রক্ষা মানেই একটি পরিবারকে রক্ষা করা, একটি স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা।
এনজে
- ১এনএসইজেডে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি, তৈরি হবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম
- ২১৬ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: চট্টগ্রামে আইনমন্ত্রী
- ৩খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি
- ৪বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ৫অনেক বছর পরে মানিকগঞ্জবাসীর স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এসেছে: পর্যটন মন্ত্রী
- ৬নড়াইলে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
- ৭তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সময় বাড়াল বিএসইসি
- ৮জুলাই নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইবিতে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত
- ৯২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকা
- ১০মাদারীপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা
- ১সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ
- ২কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ৩তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
- ৪চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
- ৫বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- ৬সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৩৫
- ৭সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে
- ৮চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- ৯সরকারের পাঁচ মাসেই নানা কথা শুরু হয়েছে, সুযোগ হারানো যাবে না
- ১০চাঁদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার বাবলু মারা গেছেন





পাঠকের মতামত