
বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ঘাটটি এখন যেন এক মরণফাঁদ। বহু বছর আগে পুরনো রেলপাটির ওপর আরসিসি স্লিপার বসিয়ে নির্মিত ঘাটটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে ও দেবে গিয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সমুদ্র থেকে মাছ নিয়ে ফেরা ট্রলার থেকে মাছ খালাস, বরফ তোলা এবং জেলে-শ্রমিকদের ওঠানামা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ১১ জুন শেষ হয়েছে ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষে শত শত ফিশিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে পাড়ি জমিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ট্রলার মাছ নিয়ে ফিরতে শুরু করবে। কিন্তু মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ঘাটের বেহাল দশা নিয়ে এখন উদ্বেগে রয়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক, আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটের আরসিসি স্লিপারগুলোর অনেকগুলো ভেঙে বড় বড় ফাঁকা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও স্লিপার সরে গিয়ে নিচের রেলপাটিগুলো উন্মুক্ত হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানির প্রভাবে ক্ষয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে পুরো কাঠামো। ফলে ভারী মাছের ঝাঁকা, বরফ কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ওঠানামা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ঘাটটির এই বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এই ঘাটকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয় শরণখোলার অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বাণিজ্য।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সম্প্রতি শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক দ্বিতল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু জেলে ও ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—ঘাট সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো কাজ করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও মূল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকট থেকেই গেছে।
স্থানীয় মৎস্য আড়ৎদার কবির হাওলাদার বলেন, “ইলিশ মৌসুমসহ সারা বছর অসংখ্য ট্রলার এই ঘাটে ভেড়ে। প্রতিদিন শত শত মণ মাছ কেনাবেচা হয়। কিন্তু ঘাটের বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে নিরাপদে ওঠানামা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, “৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আবার মাছ ধরা শুরু হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ট্রলারগুলো মাছ নিয়ে ফিরবে। কিন্তু এই ভাঙাচোরা ঘাট দিয়ে মাছ নামানো ও বরফ ওঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ হলেও ঘাট নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক ট্রলার এখন শরণখোলা এড়িয়ে সরাসরি পাথরঘাটা, খুলনা কিংবা বাগেরহাটের অন্য অবতরণ কেন্দ্রে চলে যায়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে ঘাটটি সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “ঘাটটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ঘাটটি পরিদর্শন করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি, শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক মৎস্য অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই অবকাঠামো দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলেদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া না হলে চলতি ইলিশ মৌসুমে ঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়বে, অন্যদিকে শরণখোলার মাছের বাজার ও ব্যবসায়ও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ঘাটটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
টিআর
- ১সংসদের গণপূর্ত প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ
- ২২৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো আড়াই বিলিয়ন ডলার
- ৩মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৪হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ অনেকে আহত
- ৫প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৬বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত
- ৭বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ফার্মেসিকে জরিমানা
- ৮‘অনলাইন এডিটরস ফোরাম’-এর আহ্বায়ক পিন্টু, সদস্যসচিব ইফতেখার
- ৯কুড়িগ্রামে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
- ১০জাপানের সঙ্গে মেট্রো-অবকাঠামো সহযোগিতা জোরদার
- ১নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
- ২১৩ দিনে সরকারের ব্যাংক ঋণ ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা
- ৩চাঁদপুরে অনুমতি ছাড়া নদী দখল করে হোটেল নির্মাণ
- ৪রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সোবহান
- ৫চরফ্যাসনে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু
- ৬স্পিকারের দিকনির্দেশনা পেলেই গাজী নজরুলের এমপি পদের সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
- ৭দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
- ৮ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক-অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
- ৯খুকৃবির নতুন উপাচার্য বাকৃবির অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার
- ১০বিএসইসির কমিশনার হলেন হোসেন সাদাত





পাঠকের মতামত