প্রকাশিত: মে ২২, ২০২২ ৪:১৭ পিএম

সুনামগঞ্জে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে শংকা কাটেনি। চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে আবারও বাড়তে পারে পানি। শহরের কালিপুর,মল্লিকপুর, নতুনপাড়া, তেঘরিয়া ও বড়পাড়া এলাকায় সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। আগের মতোই শুকানো সড়কে যাতায়াত করছেন লোকজন। তবে শহরের সুলতানপুর, ওয়েজখালী, কালিপুর গ্রামের অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি। ১৬ দিন পর রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তিতে আছেন দূর্গতরা। আশ্রয় কেন্দ্রের লোকজন কবে বাড়ি ফিরবেন সেই আশায় প্রহর গুনছেন। এদিকে শহরতলির কিছু এলাকায় পানি কমলেও ঢলের পানি গিয়ে ঠেলছে ভাটি এলাকা হিসেবে পরিচিত দিরাই ও শাল্লা উপজেলায়। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত তিন ফুট পানি বেড়েছে। ফয়জুল্লাহপুর এলাকার বাঁধ ভেঙে কুশিয়ারা নদীর পানি শাল্লায় ঢোকায় পানি বাড়ছে।

দিরাইয়ে উজানে পানি কমায় দিরাই উপজেলায় পানির চাপ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে দিরাই বন্যাকবলিত হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তাঁরা। ছাতকের কিছু ইউনিয়নে পানি কমলেও বেড়েছে জাউয়া বাজার, গোবিন্দগঞ্জ, সৈয়দেরগাঁও ও সিংচাপইড় ইউনিয়নে। সুনামগঞ্জ শহরের বন্যাকবলিত সুলতানপুর গ্রামের ৭৫টি পরিবার সরকারী কলেজে আশ্রয় নিয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেউ রান্নাবান্না করছেন, কেউ গ্রামের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় আছেন কবে ফিরবেন বাড়ি। আশ্রয় কেন্দ্রে কথা হয় আনোয়ারা বেগমের সাথে তিনি বলেন, আমার কেউ নেই। ডিসি স্যার খাবার দিছেন। ঘরে এখনো পানি। বানের পানিতে ঘরখানা অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিভাবে ঘরের কাজ করি সে চিন্তাই আছি। আলেয়া বেগম জানান, এখনো ঘরে হাঁটু পানি। বন্যায় ঘর, আসবাবপত্র শেষ। কিতা করুম বুঝরাম না। শাহ আলম জানান, ডিসি স্যার ও পৌর মেয়র চাল ডাল দিয়েছেন। ভালই আছি আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে বাড়ি ফিরে কি করব, কিভাবে ঘর মেরামত করব জানিনা। তারা বন্যার পানি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর জন্য সহায়তার দাবি জানান জেলা প্রশাসনের কাছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল নয়টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৭৭ সেন্টিমিটার। এখানে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার নীচে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ৪৬ মিলিমিটার। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় ১৬৫ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা
হয়েছে। জেলা এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ২০টি। এতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সুনামঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে। এবং যে কোনো সমস্যায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সংসদের গণপূর্ত প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনে অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ...

প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ...

বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ফার্মেসিকে জরিমানা

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী তামিম মেডিকেল ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ...

কুড়িগ্রামে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫২ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ...