জাহাঙ্গীর আলম আনসারী, সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬ ৮:৩৬ এএম , আপডেট: জুন ২২, ২০২৬ ৯:৩৯ পিএম
  • বিআইএফসির খেলাপি ৯৭.৩০ শতাংশ
  • জিএসপি’র খেলাপি ঋণ ৫৯ শতাংশ
  • প্রিমিয়ার লিজিংয়ের খেলাপি ৭৫ শতাংশ
  • প্রাইম ফাইন্যান্সের খেলাপি ৭৮ শতাংশ

চার প্রতিষ্ঠানের লোকসান ২১১১ কোটি টাকা

>> কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না আসলে ৪ প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে: মুখপাত্র, বাংলাদেশ ব্যাংক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম-দুর্নীতি আর ঋণের নামে লুটপাট শুধু ব্যাংক খাতেই হয়নি। এর ছুঁয়া লেগেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও (এনবিএফআই)। এখান থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ঋণের নামে লুটে নেয়া ফেরত না আসায় বেড়েছে খেলাপি ঋণও। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে না পারা ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ২০২৫ সালের মে মাসে নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন বন্ধ করা হবে না নোটিশে সেটা জানতে চেয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর বাদ দেয়া হয় জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিআইএফসির খেলাপি ঋণ ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। লোকসান ৪৮০ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের খেলাপি ঋণ ৯৮৪ কোটি টাকা বা ৭৫ শতাংশ। আর লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা। জিএসপি ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫১৫ কোটি টাকা বা ৫৯ শতাংশ। আর লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৫৩৪ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ। আর লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চারটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরও কিছু দিন সময় চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা হয়। তাদের আবেদন বিবেচনা করে শর্ত সাপেক্ষে আরও কিছু দিন সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্রে জানা গেছে, অবসায়নের বাইরে রাখা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে খুব বেশি সময় দিবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘুরে দাড়ানোর জন্য তাদেরকে সর্বোচ্চ তিন সময় দেয়া হবে। এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাড়াতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে পরবর্তীতে তাদেরকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।
সূত্রটি জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠির খসড়াও তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় ও শর্তের বিষয়গুলো জানিয়ে চিঠি দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, কিছু শর্ত সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আবেদন বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হল-আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে। আমানতকারীরা যাতে তাদের টাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আর আসতে না হয়। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ আদায় করে খেলাপির হার কমাতে হবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদেরকে কোনো প্রকার তারল্য সহায়তা দিবে না। নিজেরা আমানত সংগ্রহ করতে হবে। টাকার জন্য তাদেরকেই ইনভেস্টর খুঁজে বের করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, এই চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো শিথিলতা নাই। তাদের বক্তব্য যুক্তিসংগত হওয়ায় তাদেরকে কিছু দিন সময় দেয়া হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া সময়ের মধ্যে তাদেরকে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো পরিবর্তন না হয় তাহলে হয়তো তাদেরও অন্য পাঁচটার মতো পরিণত হবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ব্যাংকারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের অভিযোগ ও শৃঙ্খলামূলক মামলা দুই মাসের মধ্যে ...

খেলাপি হলে মিলবে না ইডিএফ ঋণের নতুন সুবিধা

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও সুশৃঙ্খল করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ...

ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজে নতুন নির্দেশনা

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা ...