ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:৩৩ এএম

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ধূমপান, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরলসহ নানা কারণের কথা আমরা জানি। তবে প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এসব অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে তাই দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

১. ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা

অফিসের ডেস্ক, গাড়ি কিংবা টেলিভিশনের সামনে দীর্ঘসময় বসে থাকা এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু টানা বসে থাকলে শরীরের রক্তসঞ্চালন ও ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া কমে যায়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই দীর্ঘসময় বসে না থেকে প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ানো, একটু হাঁটা বা শরীরের পেশি টানটান করার অভ্যাস করুন।

২. ঘুমকে গুরুত্ব না দেওয়া

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু শরীর ও মন নয়, হৃদপিণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে রক্তচাপ ও শরীরে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং শোয়ার আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলাও উপকারী।

৩. খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ করা

আচার, প্যাকেটজাত খাবার, সস, পাপড় ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সোডিয়াম থাকে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এতে হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়।

খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে লেবুর রস, মসলা ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদান দিয়ে স্বাদ বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

৪. দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকা

কাজের চাপ, অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা কিংবা পারিবারিক নানা সমস্যা থেকে তৈরি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসও বাড়তে পারে।

নিয়মিত হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান, শরীরচর্চা কিংবা পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় পান করা

সফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি কিংবা মিষ্টি ফলের পানীয়—এসবের মাধ্যমে অজান্তেই শরীরে অতিরিক্ত চিনি প্রবেশ করতে পারে।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এসব পানীয়ের পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি কিংবা কম বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

৬. শরীরচর্চা বা দৈনন্দিন নড়াচড়া কমিয়ে দেওয়া

হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রতিদিন জিমে যাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা নাচের মতো শারীরিক কার্যক্রমও উপকারী।

প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। দৈনন্দিন ছোট ছোট পরিবর্তন—যেমন লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার—শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।

৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া

উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের মতো অনেক সমস্যা শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে সুস্থ মনে হলেও শরীরে এসব ঝুঁকি থাকতে পারে।

তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরলসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘসময় বসে থাকা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত লবণ-চিনি এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো অভ্যাসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিজ্ঞান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ কাজে লাগাতে হবে

শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা দিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞান, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ...

এবার ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি শনাক্ত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রায় মার্কারি (পারদ) শনাক্ত করেছে ...