নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৩:৫১ পিএম

শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা দিয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞান, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অংশীদারত্বকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের জীবনাচরণ ও সামাজিক কাঠামো তৈরিতে ধর্মীয় নেতাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইমাম, পাদ্রি এবং অন্য ধর্মীয় প্রতিনিধিরা যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, আচরণগত পরিবর্তন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেন, তবেই সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সম্পৃক্ততা শুধু ভাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজে লাগাতে হবে।

গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আয়োজিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কার্যক্রম উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘টাইপ-টু’ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অভূতপূর্ব সমন্বয়।

তিনি বলেন, মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের নেতাদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলনে ‘ঢাকা ডিক্লেয়ারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণা বাস্তবায়ন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিনাল হাবের হেড আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার সোবিয়া আকরাম ও ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর পিটার শোয়ার্জ।

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা, শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

১৬ আগস্ট উদ্বোধন চার বছরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

পাইলট প্রকল্প শেষে আগামী ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ সদরের ...

শিকলবিহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তেই শিকল ভেঙেছি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শিকল ভাঙার উদ্দেশ্য কেবল একটি স্বৈরাচারী বা নিপীড়নমূলক ...

ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ...