
ভোরের আলো ফুটতেই সিরাজগঞ্জের খাল-বিল ও নদী-নালার পাড়ে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। বাঁশের ভেলায় বাঁধা পাটের আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার শাঁ শাঁ শব্দ। রোদের তাপে শুকানো সোনালি আঁশের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে পথঘাট। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার সেই চেনা রূপ আবার ফিরে এসেছে সিরাজগঞ্জের মাঠে মাঠে। দীর্ঘদিন পর পাটের বাম্পার ফলন আর বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে এখন প্রশান্তির হাসি।
মাঠ থেকে হাট, কিংবা হাট থেকে পাটকল-সব জায়গাতেই এখন ব্যস্ততার আমেজ। জেলার স্থানীয় বাজারগুলো ছাড়াও পোড়াবাড়ী, সমোসপুর, সোহাগপুর, নলকা ও বল্লামপুর হাটে কেনাবেচার ধুম পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাট ঘুরে জানা যায়, মানভেদে মেস্তা পাট বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৪,৬০০ থেকে ৪,৯০০ টাকায়। অন্যদিকে তোষা ও সাদা পাটের দাম মিলছে ৩,৭০৩ থেকে ৩,৯০০ টাকা। সংগৃহীত পাট সরাসরি চলে যাচ্ছে দেশের বড় বড় পাটকলে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী এলাকার পাট ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, ভালো পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে মেস্তা বা তোষা যাই আসুক, দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই কেনার তাগিদও বেশি।
অবশ্য সব জাতের গল্পটা এক নয়। ব্যবসায়ী মো. সানোয়ার খন্দকার ও আনোয়ার খন্দকার জানান, নামলা বা ইরিকাটার চেয়ে চৈতা বাইন বা আগ্গুর জাতের পাটের ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়েছে। ফলে দামও বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা।
একসময় খরচ না ওঠা এবং কৃত্রিম তন্তুর আগ্রাসনে অনেক চাষিই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে সেই অনাগ্রহের মেঘ কাটতে শুরু করেছে।সদর উপজেলার দুখিয়া বাড়ি গ্রামের আরমান
শোনালেন ঘুরে দাঁড়ানোর কথা দাম না পেয়ে একসময় তো আবাদ বন্ধই করে দিয়েছিলাম। কৃষি অফিসের কথায় সাহস করে এবার আবার বুনেছিলাম। প্রতিটি গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট লম্বা হয়েছে! বিঘায় পেয়েছি ১৫ মণ করে। খরচ বাদ দিয়ে যা থাকছে, তাতে আমরা খুবই খুশি।
সিরাজগঞ্জের মোট আবাদ ১৪,৬১০ হেক্টর জমি (তোষা, মেস্তা, বারি-১, সবুজ সোনা ইত্যাদি) আবাদ হয়েছে। গড় ফলন বিঘাপ্রতি ১০–১২ মণ (উৎকৃষ্ট ক্ষেত্রে ১৫ মণ পর্যন্ত)। উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ১২,০০০–১৪,০০০ টাকা। বর্তমান বাজারদর: প্রতি মণ ৩,৭০০–৪,৯০০ টাকা।
পাট কেবল কৃষকের ভাগ্যই ফেরায়নি, গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও এনেছে স্বস্তি। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া, শুকানো থেকে শুরু করে বহন ও বাছাই প্রতিটি ধাপে তৈরি হয়েছে নতুন কাজের সুযোগ। পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও পাট ও পাটখড়ি শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় পাট নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যাগ, কার্পেট, জিও-টেক্সটাইল কিংবা নানা ফ্যাশনসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে পাটের সম্ভাবনা এখন আকাশচুম্বী।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদের কারণেই এবার সুফল এসেছে। খরচ কম কিন্তু ভালো দাম থাকায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। এ ধারা বজায় রাখতে সার্বিক কৃষি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
উৎপাদনের এই গতি, ন্যায্য দাম আর সরকারি-বেসরকারি সহায়তা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সিরাজগঞ্জের বুক চিরে সোনালি আঁশের ঐতিহ্য আবার তার আগের জৌলুশে ফিরবেই।
এনজে
- ১নৌযান শুমারির তথ্য সংগ্রহ শুরু ২০ আগস্ট
- ২পিকেএসএফের সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের চুক্তি
- ৩বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত
- ৪ইবি’র টিএইচএম বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তি নির্ধারণে কমিটি গঠন
- ৫প্রান্তিক পর্যায়ে বেকার যুবকদের ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
- ৬বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক কোনো ব্যবসা করতে দেবো না
- ৭শেরপরে এসএসসি পরীক্ষায় চার বিষয়ে ফেল;শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
- ৮বাকৃবির ডিজিটাল সেবায় যুক্ত হলো তিন নতুন প্ল্যাটফর্ম
- ৯ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়ার প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন
- ১০এসডিজি অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
- ১ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু
- ২‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
- ৩চাঁদপুরে ঘূর্ণিস্রোতে সাড়ে চার হাজার বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি
- ৪বাংলা কিউআর প্রচারে অগ্রণী ব্যাংকের রোড-শো
- ৫অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র: তথ্যমন্ত্রী
- ৬বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
- ৭শিবচরে মেজর ছেলের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, মানববন্ধন
- ৮ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮ক ধারা বিলুপ্ত হচ্ছে
- ৯অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাজ করছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ১০সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই





পাঠকের মতামত