নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬ ২:০৯ পিএম

মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনগত সুযোগ ধরে রাখলেও আদালতের সর্বশেষ রায় তাকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আপিল আদালত তাকে কারাদণ্ড দিলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার বহাল রেখেছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্রেসলেট পরতে হবে, যা তার নির্বাচনী প্রচারণাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে পারে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম হাফপোস্ট ফ্রান্স জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফরাসি আপিল আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল অপব্যবহারের মামলায় মারিন ল্য পেনকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের শর্ত অনুযায়ী তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। ফলে আইনগতভাবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ তার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

তবে রায়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্রেসলেটের বিষয়টি। ফ্রান্সে এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির চলাফেরা আদালত নির্ধারিত সময়সূচি ও শর্তের আওতায় থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে অবস্থান, দূরপাল্লার সফরের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া এবং চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। যদিও প্রয়োজনে আদালত বিশেষ অনুমতিও দিতে পারে, তবুও একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা, ধারাবাহিক সফর ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

মারিন ল্য পেন আগেই জানিয়েছিলেন, ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে চান না। তার ভাষায়, একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সারা দেশে অবাধে প্রচারণা চালানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত। তিনি বলেন, যদি প্রতিটি সফর বা জনসভার জন্য বিচারকের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সেটিকে স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা বলা যায় না। তার মতে, ‘প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দিয়ে বাস্তবে স্বাধীনভাবে প্রচারণার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের পর মারিন ল্য পেনের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি হয় আদালতের শর্ত মেনে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, অথবা আগের অবস্থানে অটল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলের নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে পারেন।

এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত একজন রাজনীতিবিদ কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় মারিন ল্য পেনের দল রাসঁব্লমঁ নাসিওনাল (আরএন)-এর অন্যতম স্লোগান ছিল ‘পরিষ্কার হাত, উঁচু মাথা’। সেই নৈতিক অবস্থান এখন কতটা অটুট রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে ল্য পেনের সমর্থকদের দাবি, আপিল আদালত যেহেতু তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার বহাল রেখেছে, তাই তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া উচিত।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে কোনো বক্তব্য দেননি মারিন ল্য পেন। তবে তার আইনজীবী রোদলফ বোসেলু বলেন, আদালত নির্বাচনী অযোগ্যতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাসঁব্লমঁ নাসিওনালের ভেতরেও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের তরুণ সভাপতি জর্দান বারদেলাকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে আরএনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সমর্থক মনে করেন, আদালতের রায় যাই হোক না কেন, ২০২৭ সালের নির্বাচনে বারদেলাকেই প্রার্থী করা উচিত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ ফরাসি রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মারিন ল্য পেন নিজে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন, নাকি দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব জর্দান বারদেলার হাতে তুলে দেবেন—সেই সিদ্ধান্তই ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল’ পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে এম. রহমান: অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল (ওএএম)’ ...

প্যারিসের অদূরে লা কুরনভ পার্কে এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্সের বর্ণাঢ্য শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত

ফ্রান্স থেকে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম: প্যারিসের অদূরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত লা কুরনভ পার্কে গতকাল ...