প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৪ ৮:০২ পিএম , আপডেট: মে ২১, ২০২৪ ৮:০৩ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাসের শীর্ষ তিন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এই আবেদন জমা পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু।

মঙ্গলবার (২১ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার (২০ মে) নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে হিব্রু ভাষায় জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী-প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে উগ্রপন্থী খুনীদের সঙ্গে এক সারিতে বিবেচনা করায় আমরা হতভম্ব, হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ইসরায়েলের নেৃতত্বকে হামাসের সমপর্যায়ের নামিয়ে আনা চরম হঠকারী ও ঔদ্ধত্বপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ত, হামাসের প্রধান নির্বাহী ইসমাইল হানিয়া, শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগ্রেডের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মেদ আল মাসরি ওরফে দেইফ আল মাসরির বিরুদ্ধে আইসিসিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জমা পড়েছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধে উসকানি, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভিযোগে এই আবেদন করা হয়।

আইসিসির শীর্ষ প্রসিকিউটর করিম আসাদ আহমেদ খানের (করিম খান) দপ্তর থেকে আবেদনটি জমা পড়ে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৭ মাস ধরে গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। সে জন্য নেতানিয়াহু-হানিয়াসহ মূলত দায়ী ৫ জন। এসময়ে গাজায় যত যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, সেসবের জন্যও দায়ী তারা। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্য আবেদনের প্রধান কারণ এটিই।

পরোয়ানার জন্য আবেদনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসকে এক দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একেবারেই নেই। তার এই প্রতিক্রিয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এটি লজ্জাজনক। আইসিসির এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

বিশ্বের ১২৪টি রাষ্ট্র আইসিসি নামের স্থায়ী বৈশ্বিক আদালতকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় ইসরায়েলের নাম নেই। তেমনি নেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ারও। তাই ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয়নি- এমন সব দেশে নেতানিয়াহু, হানিয়া এবং বাকি তিনজনের কোনো ঝুঁকি নেই।

এছাড়া আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিপ্রয়োগের ক্ষমতা আদালতটির নেই। তবে মূল সমস্যা হলো, একবার যদি আইসিসি পরোয়ানা জারি করে— তাহলে তা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এই আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোতে সফর করা ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হবে নেতানিয়াহু, হানিয়া এবং তালিকার অপর তিন জনের জন্য। কারণ সেক্ষেত্রে সেসব দেশের সরকার চাইলেই আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে আমলে নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ আইসিসিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইরানকে দুর্বল ও হরমুজে নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন ও ইরানকে দুর্বল করার মিশনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য ...

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ইন্টারসেপ্টর মিসাইল শেষ হওয়ার শঙ্কায় ইরানে মার্কিনিদের হামলা বন্ধ

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ হামলা চালানোর পর গত দুইদিন ধরে হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ...

‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা শুভেন্দুর

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ...