নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬ ৪:১৭ পিএম

জাতীয় সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে তার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু নয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি এর স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

তিনি ঘোষণা করেন, সংসদের কার্যক্রমে ইনসাফ কায়েম করা এবং বিরোধী দল যাতে কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই হবে এই সংসদের মূল চালিকাশক্তি। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সংসদকে দেশের সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

নবনির্বাচিত স্পিকার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বৈরশাসকের আগমন ঘটলেও বাংলাদেশের লড়াকু জনগণ বারবার গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় করা হয়েছে।’ তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

নিজের ১০টি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, গত ১২ মার্চের নির্বাচনটি আমার অভিজ্ঞতায় সবচাইতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এখন জনগণ অধীর আগ্রহে এই নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখার অপেক্ষায় আছে। নির্বাচনী ওয়াদা পালন করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের প্রাথমিক দায়িত্ব।

সংসদ পরিচালনায় বিরোধী দলের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল যাতে এই সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। আমি ইতিমিধ্যেই নিরপেক্ষতার খাতিরে দলীয় পদ ত্যাগ করেছি। এখন থেকে আমার কাছে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে আলাদা কিছু থাকবে না; আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। এই লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সংসদের প্রতিটি সদস্যের ওপর ন্যস্ত। তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনতার স্বপ্ন পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ করতে হবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও ...

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে কাজ শুরু হয়েছে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞের ক্ষতি অল্প সময়ের মধ্যে কাটিয়ে ...

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য ...

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্সের অ্যাম্বাসেডর

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে ইউরোপের ...

তথ্যমন্ত্রী বিশ্বকাপ দেখানোর নামে ২০২২ সালে লুটপাট, এবার ঘাটতি মাত্র ৪-৫ কোটি টাকা

২০২২ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ...

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র-সমাজের যৌথ দায়িত্ব: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মানুষ। এ রাষ্ট্রে তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ...

রাজধানীর আরও ৫০ পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের ...