
ইউক্রেনে সংঘাত চলছেই। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটি হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকে যুদ্ধ থামার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এদিকে পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ। এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশই এই হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে রাশিয়ার সরকারি জরিপ এবং স্বাধীন সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অধিকাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনে চলমান আগ্রাসনকে সমর্থন করেন।
গত ৫ মার্চ ‘রাশিয়ান পাবলিক অপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টার’ পরিচালিত একটি জরিপের তথ্যে জানানো হয় যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সেনা অভিযান’ সমর্থন করেন ৭১ শতাংশ রুশ নাগরিক। আর এই আগ্রাসন সমর্থন করেন না ২১ শতাংশ মানুষ এবং এ সম্পর্কে জানেন না ৮ শতাংশ মানুষ।
যাদের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে তাদের ৭০ শতাংশ মনে করেন রুশ সেনাবাহিনীর অভিযান পরিকল্পনা মাফিক চলছে।
একই ধরণের চিত্র উঠে এসেছে ‘দ্য পাবলিক অপিনিয়ন ফান্ড’-এর জরিপে। সংস্থাটি মূলত প্রেসিডেন্সিয়াল প্রশাসনের পক্ষ হয়ে জরিপ পরিচালনা করে থাকে। ওই সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে যে ৬৫ শতাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনে চলমান সেনা অভিযানকে সমর্থন করেন, ১৭ শতাংশ করেন না এবং ১৮ শতাংশ অভিযান সম্পর্কে জানেন না।
রাশিয়ার সরকারবিরোধী কর্মী অ্যালেক্সি মিনইয়াইলোর স্বাধীন জরিপেও উঠে এসেছে যে সিংহভাগ রুশ নাগরিকই যুদ্ধের পক্ষে। জরিপটির শিরোনাম ছিল ‘রুশরা কি যুদ্ধ চায়’?
ওই জরিপে ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিয়েছেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এবং ‘না’ উত্তর দিয়েছেন ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা। এই জরিপগুলোতে যুদ্ধের সমর্থনে মন্তব্য করেছেন যারা, তাদের ৭৩ শতাংশ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্বাস করেন এবং যুদ্ধের বিরোধিতা করা উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশ সেসব সংবাদ মাধ্যমের খবর বিশ্বাস করেন না।
যেসব রুশ নাগরিক ইউক্রেনে যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করছেন তাদের অধিকাংশের বয়স ৩০-য়ের নিচে। তারা এখনও সেনাবাহিনীতে ডাক পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
তবে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করে তৈরি করা গবেষণাতেও এসব জরিপের মতোই ফলাফল পাওয়া গেছে। যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া থেকে ইন্টারনেটে পোস্ট করা কন্টেন্টের ৫২ শতাংশ যুদ্ধের সমর্থনে, আর ৩০ শতাংশ যুদ্ধবিরোধী।
যুদ্ধের সমর্থনে অথবা যুদ্ধের বিরুদ্ধে যেরকম পোস্ট হোক ৩০ শতাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনের নাগরিকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
ইউক্রেনের টেলিভিশন ও নিউজ ওয়েবসাইটগুলো যুদ্ধের ভয়াবহ সব ছবি ভিডিওর খবরে পূর্ণ। বোমায় বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া আবাসনকেন্দ্র, আহত ও নিহত বেসামরিক নাগরিক, ধ্বংস হয়ে যাওয়া রুশ যানবাহনের ছবি-ভিডিওর পাশাপাশি ইউক্রেনে আটক হওয়া রুশ সেনা সদস্যদের রক্তাক্ত ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে ইউক্রেনের আনুষ্ঠানিক সোশ্যাল মিডিয়ার পেজগুলোতে।
তবে রাশিয়ার টেলিভিশন দেখলে অবশ্য রুশ সেনাবাহিনীর কোন ধরনের ব্যর্থতা বা পরাজয়ের খবর পাওয়া যায় না। রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনা শুরু করার এক সপ্তাহের মধ্যে রুশ সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে, যেখানে রুশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য নয়, এমন খবর প্রচার করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওই আইন অনুযায়ী, এমন কোনো খবর প্রচার করলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রুশ সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ইউক্রেনে চলমান সেনা অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একে ‘বিশেষ অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব সংবাদমাধ্যম এই নির্দেশনা মেনে চলেনি, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সব স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ক্রেমলিনের বিরোধিতা করে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা প্রায় সব রুশ সংবাদ মাধ্যমকে ‘বিদেশি চর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
যুদ্ধের বিষয়ে বা রুশ বিশেষ সেনা অভিযান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের কোন প্রশ্নটি কীভাবে করা হচ্ছে, তার ওপর তাদের উত্তর নির্ভর করে এবং জরিপের ফলাফলও প্রভাবিত হয় বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের গবেষক অ্যালেক্সি বেসুদনভ।
রাশিয়ার সরকারি সংস্থার পরিচালিত জরিপগুলো করা হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের ফোন করে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে।
বেসুদনভ বলেন, ফোন করে অপরিচিত একজন ইউক্রেনে রুশ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করে আপনার মতামত চাইলে এ সম্পর্কে খোলামেলা উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে অধিকাংশ মানুষই।
তার বেসুদনভের মতে, এই জরিপগুলো থেকে বোঝা যায় যে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ রুশ নাগরিক সম্ভবত রাশিয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত সমর্থন করার পক্ষে।
এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবং বয়স বিভাজনের ওপরও এই জরিপগুলোর ফলাফল নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ৩০ বছরের কম বয়সী অধিকাংশ রুশ নাগরিক এই বিশেষ সামরিক অভিযান সমর্থন করেন না।
এছাড়া কোন মাধ্যম থেকে খবর পাচ্ছেন, তার ওপরও জরিপের ফলাফল ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। অংশগ্রহণকারী নারী না পুরুষ, তার ওপরও উত্তর অনেকাংশে নির্ভর করে। মধ্যবয়সী নারীদের অধিকাংশই যুদ্ধ সমর্থন করেন না। কিন্তু সংখ্যায় কম হলেও, রাশিয়ার নাগরিকদের অনেকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনবিরোধী একটি মনোভাব নিশ্চিতভাবেই রয়েছে।
- ১চাঁদপুরে পাট উৎপাদনে শীর্ষে সদর
- ২বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
- ৩শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৪কুলাউড়া পৌর বিএনপির কমিটি স্থগিত
- ৫ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল
- ৬বাঘ রক্ষা করা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ
- ৭হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি
- ৮বেড়া উপজেলার ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ
- ৯আজ ঢাকার বায়ু অস্বাস্থ্যকর
- ১০ইউনিলিভার কনজুমারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ১নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
- ২রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. সোবহান
- ৩ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক-অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
- ৪স্পিকারের দিকনির্দেশনা পেলেই গাজী নজরুলের এমপি পদের সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
- ৫জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম
- ৬দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
- ৭পুলিশ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচবে, কারও লাঠিয়াল বাহিনী হবে না
- ৮উন্নয়ন কাজে অনিয়ম হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে
- ৯দর বৃদ্ধির শীর্ষে আর্গন ডেনিমস
- ১০বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর আরও বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী





পাঠকের মতামত