ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৫ ১২:৩৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির ইবি শাখা।

শনিবার (২ আগষ্ট) বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক অতিক্রম করে প্রধান ফটকে এসে সমবেত হয় এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

এসময় তাদের “ইবিতে ছাত্র সংসদ গঠন করো করতে হবে”, “ইকসু নিয়ে টালবাহানা আর না আর না”, “হাবিপ্রবি, যবিপ্রবি সবাই পারে, ইবি প্রশাসন কি করে”, “আদর্শের সংগ্রাম শিবিরের আরেক নাম”, “অফিসে গিয়ে পাই না সাড়া, শিক্ষার্থীরা দিশেহারা”, “লাঞ্চ করতেই দিন পার, কর্মকর্তারা জমিদার”, “সনদ করতে উত্তোলন শিক্ষার্থীদের যায় জীবন”, “নাপাকেন্দ্রের ডাক্তার, পরিবর্তন করো করতে হবে” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. ইউসুব আলী বলেন, “জুলাই বিপ্লবের এক বছর হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয় নাই। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা হয় নাই। আমরা এখনো দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। জুলাই বিরোধীরা এখনো বুক ফুলিয়ে চলছে।

এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সময় থাকতে আপনারা সাবধান হয়ে যান, টালবাহানা করবেন না, ক্যাম্পাস নিয়ে ভাবুন, ক্যাম্পাসের সংস্কার করুন, ফ্যাসিবাদ নির্মূল করুন, নাহলে শিক্ষার্থীরা আপনাদের মসনদ তছনছ করে দিবে।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিপ্লব পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার চোখে পড়ে নাই। আমরা ভেবেছিলাম শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ, ক্যাম্পাস হবে শিক্ষার্থীবান্ধব, ভেবেছিলাম নিখোঁজ ওয়ালীউল্লাহ, মুকাদ্দাসের খোঁজ পাবো। কিন্তু সেটাও পাইনি বরং প্রশাসন জুলাই বিল্পবীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। আপনারা শিক্ষার্থী বান্ধব হতে পারেন নাই। লোক দিয়ে জরিপ করে দেখুন পাশ মার্কও পাবেন না। আপনারা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করুন, সংস্কার করুন নাহলে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হবো। ছাত্র সংগঠনের কাজ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, প্রশাসনকে সাহায্য করা। কিন্তু এভাবে দায়সারাভাবে থাকলে আপনারা শিক্ষার্থীদের কোনো সাহায্য পাবেন না।”

তিনি আরোও বলেন, “শাবিপ্রবি, যবিপ্রবি, হাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ গঠন করেছে। তারা জুলাই বিপ্লবের সম্মান রেখেছে। আপনারা কেন ইকসু গঠন করতে পারলেন না? শেখ হাসিনাও ভেবেছিলো জনগনের ইচ্ছা উপেক্ষা করে ক্ষমতার চেয়ার রক্ষা করতে পারবে কিন্তু পারে নাই আপনারাও পারবেন না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের পরপরই শিক্ষক নিয়োগ হয়ে গেছে অথচ আপনারা কি কারণে নিয়োগ দিচ্ছেন না? শুধু সার্কুলার পর্যন্ত শেষ কেন? নাকি যখন টাকা খাওয়া হয়ে যাবে তখন নিয়োগ দিবেন? সাজিদ হত্যার বিচার করুন। যদি শিক্ষার্থীদের জন্য ভালোবাসা প্রমাণ দিতে চান তাহলে সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১১০ টা দাবি দিয়েছি কিন্তু তারা পাশ করার মতো দাবিও রাখেন নাই। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার জন্য, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার জন্য প্রশাসনের সাথে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব তৈরি করুন। ইকসু গঠন করুন তাহলেই ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। যদি আমাদের দাবি না মানা হয় তাহলে আমাদের যা করার সবই করবো।”

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

মিরপুরে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মিরপুর বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের অদূরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ...

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, ফেরত পাঠালো বিজিবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার ...