জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬ ৯:৩১ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় গ্রামের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসলি জমি, পাটক্ষেত ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে চাষ করা ঘাস হারিয়ে অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভিটেমাটি রক্ষার চিন্তায় নদীপাড়জুড়ে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পদ্মার ভাঙন দিন দিন তীব্র হচ্ছে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান ভাঙনে ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষকের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে পাট, মৌসুমি ফসল এবং পশুখাদ্যের জন্য চাষ করা ঘাসের ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোলদিয়াড় গ্রামের কৃষক নেন্টু মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে তার প্রায় আট বিঘা পাটক্ষেত নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পুরো বিনিয়োগ মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

মাজদিয়াড় গ্রামের কৃষক বদরুল আলী বলেন, তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি, পাট এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে আবাদ করা ঘাস নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।

এছাড়া ইয়াসিন প্রামাণিক, আমিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, বাবুল প্রামাণিক ও সাধু ফরাজিসহ অর্ধশতাধিক কৃষকের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। অনেক কৃষক জানান, কয়েকদিন আগেও যেখানে সবুজ ফসলের মাঠ ছিল, সেখানে এখন শুধু উত্তাল নদীর স্রোত।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও পদ্মার ভাঙনে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কৃষকদের জমি ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মা নদীর ভাঙন দৌলতপুরের মানুষের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা ও গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় একই দুর্ভোগ বছরের পর বছর চলতে থাকে।

কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, “বর্তমানে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সরকার গঠন করেই তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছেন: খোকন তালুকদার

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ...

রাজনগরে যাবজ্জীবন সাজা ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের রাজনগর থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি টোকন ওরফে ...

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, ফেরত পাঠালো বিজিবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার ...

লক্ষ্মীপুরে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ...

চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য মো. আফতাব ...