নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬ ৯:০৯ পিএম , আপডেট: মে ২৫, ২০২৬ ৯:১০ পিএম
  • ২০২৫ সালের মার্চে ছিল ৩৮৩১৯৮ কোটি টাকা
  • চলতি বছরের মার্চে ৪০৮৫৪২
  • এক মাসে বেড়েছে ২৩৩৬ কোটি টাকা

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ব্যাংক খাতে ব্যাপক সংস্কার শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর উপর মানুষের আস্থা আবার ফিরতে শুরু করে। ধারাবাহিক বাড়তে থাকে ব্যাংকগুলোর আমানতও। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশে পুরনো মালিকদের ফেরার সুযোগ রেখে আইন পাস করার পর ইসলামি ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আবার উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, নতুন এই বিধান অনুযায়ী, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক শেয়ারহোল্ডার বা মালিকরা চাইলে আবারও সেই ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ পাবেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, যাদের অনিয়ম আর লুটপাটের কারণে একসময় ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিল, এই আইনের ফলে সেই বিতর্কিত মালিকরাই আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আসার আইনি পথ পেয়ে গেলেন।

সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হলো, মালিকানা ফিরে পেতে সাবেক মালিকদের পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের সংকট কাটাতে যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, তার মাত্র ৭.৫ শতাংশ জমা দিয়েই তারা পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই শিথিল শর্তের ফলে নামমাত্র অর্থ খরচ করেই পুরোনো অনিয়মকারীদের জন্য ব্যাংকের দরজা আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। এতে করে ব্যাংকগুলো আবারো তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এমন একটা শঙ্কা গ্রাহকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এসেছিল। ফলে প্রতি মাসেই আমানত বাড়ছে। এখন যদি গ্রাহকরা দেখেন যে পুরনো লুটেরা আবার ফিরে আসছে তাহলে জমাকৃত টাকা তারা তুলে নিতে পারেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ লাখ ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। আর পরের মাস মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।

তথ্য মতে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানত ছিল ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি বেড়েছে ২৫ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামিক শাখা ও উইন্ডোগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬৩ কোটি ডলার। আর পরের মাস মার্চ মাসে এগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় বেশি এসেছে ৬ কোটি ডলার।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামি ব্যাংক, শাখা ও উইন্ডোগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছিল ৮৫ কোটি ডলার। আর পরের মাস মার্চে এগুলোর মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর আমদানি বিল পরিশোধ বেড়েছে ২ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছিল ৬০ কোটি ডলার। আর পরের মার্চ মাসে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ৬১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ কোটি ডলার।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ব্যাংকারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের অভিযোগ ও শৃঙ্খলামূলক মামলা দুই মাসের মধ্যে ...

খেলাপি হলে মিলবে না ইডিএফ ঋণের নতুন সুবিধা

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও সুশৃঙ্খল করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ...

ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সহজে নতুন নির্দেশনা

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা ...