জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৬:৩১ পিএম

সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিজ বসতঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। আহাত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি অস্বাভাবিকভাবে নিস্তব্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে তিনজনের গলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রতিবেশী বুলু বেগম বলেন, “বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো পশু মারা গেছে। পরে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে মরদেহ দেখতে পাই। তখনই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় এলাকায়।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো গলিত অবস্থায় থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ বলেন, “একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের তিন সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ফলে ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা জড়িত এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে।

একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যুর এ ঘটনা বাগেরহাট জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ। তবে মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং মরদেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

৫৫৬ কোটি টাকায় নির্মিত ২২০ আশ্রয়কেন্দ্রের কোনোটিই শতভাগ উপযোগী নয়

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নির্মিত ...

বাগেরহাটে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা ...

সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, নিরাপদে সরানো হলো রোগীদের

সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় অবস্থিত দশতলা ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ...