
অবশেষে গতি ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্ট থেকে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত। বহুল আলোচিত এই রিজার্ভ চুরির সংশ্লিষ্টতার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সময়কার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নামও উঠে এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির তদন্তে। ইতোমধ্যে সাবেক এই গভর্নরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে সিআইডি। শনিবার সিআইডির একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই সঙ্গে রিজার্ভ চুরির সাথে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ায় আরও ৬ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংস্থাটি। আদালতের অনুমতি নিয়ে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার আদেশ ইমিগ্রেশনসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অন্য জনের মধ্যে পাঁচ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, মেইন্টেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী পরিচালক দিপঙ্কর কুমার চৌধুরী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনিস এ খান ওরফে আনিসউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এসএম রেজাউল করিম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের (এবিডি) ডিলিং রুমের সহকারী পরিচালক শেখ রিয়াজ উদ্দিন।
এ বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা এটা এসবিকে দিয়েছি। কারণ, ইমিগ্রেশনের বিষয়টা এসবি দেখে।
এ নিয়ে চেষ্টা করেও আতিউর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত মামলাটির তদন্ত ধীরগতিতে চলছিল। এমন প্রক্ষাপটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লা আল ইয়াছিনকে এ মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তার তদন্তে মোট ১৪ জনের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। তাদের মধ্যে সাতজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক (যিনি রিজার্ভ হ্যাকের আলামত নষ্টের দায়ে অভিযুক্ত), সাবেক একজন ডেপুটি গভর্নরসহ আরও সাত কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রেখেছেন গোয়েন্দারা।
সিআইডির তদন্ত-সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, রিজার্ভ সরানোর ঘটনা জেনেও পুরোপুরি গোপন রেখেছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। অভিযোগ রয়েছে তিনিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বাঁচাতে মামলা করার সময় চুরির ধারা ৩৭৯ বসানো হয়। উদ্দেশ্য, মামলাটি যেন অন্য কোনো সংস্থায় না পাঠিয়ে সিআইডিকে দিয়েই তদন্ত শেষ করা যায়।
সিআইডিকে রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পর তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি) রায়হান উদ্দিন খানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তদন্তে নেমে ওই কর্মকর্তা জানতে পারেনÑ এই অপকর্মে বিদেশি নাগরিকদের সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা। এ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ফিলিপাইন, চীনসহ কয়েকটি দেশেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় তদন্ত নতুন মোড় নেয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রক্ষিত ডলার সরিয়ে নেওয়ার অপরাধের পেছনে একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তার সিস্টেমে ২০০৯ সালে যে কাজ করা হয়েছে, সেখানে ফিলিপাইনের সাইবার টিম ছিল। মূলত তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা সিস্টেমের গোপনীয়তা সম্পর্কে ফিলিপাইনের টিমগুলো জেনে যায়। ২০১৫ সালের দিকে পরিপূর্ণ পরিকল্পনা করে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ওই ঘটনা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে ৩৫টি ভুয়া বার্তার মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভের নিউইয়র্ক শাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা চালায় অপরাধীরা। এর মধ্যে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট করতে সক্ষম হয় তারা। এই অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যায় দুই কোটি ডলার। সেই অর্থ অবশ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার আরসিবিসি ব্যাংক হয়ে ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোয় ঢুকে যায়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনও পাওয়া যায়নি।
রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি শুরুতে গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ৪১ দিন পর কর্তৃপক্ষ তাদের সুইফট সিস্টেম হ্যাক করে রিজার্ভ চুরি করা হয়েছে বলে একটি মামলা করে। ৫৪ ধারায় করা মামলাটিতে চুরির ৩৭৯ ধারাও জুড়ে দেওয়া হয়। এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
আলোচিত এ ঘটনার পর গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে নানা সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও মূল ঘটনা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা আড়ালেই থেকে যায়।
বিএইচ
- ১পাথরঘাটায় পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে ট্রলার থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ
- ২ব্লক মার্কেটে লেনদেন ২৭ কোটি টাকার
- ৩সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে
- ৪ইবিতে জুলাইয়ের সম্মুখসারীর নেতাদের আগমন
- ৫দর পতনের শীর্ষে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- ৬দর বৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স
- ৭মাদারীপুরে ডাল গবেষণা কেন্দ্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
- ৮চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- ৯লেনদেনের শীর্ষে সামিট এল্যায়েন্স
- ১০সূচকের পতনে আজও কমেছে লেনদেন
- ১চকরিয়ায় বন্যার্ত ৫০ পরিবারকে ধরা’র ত্রাণ বিতরণ
- ২সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ
- ৩তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
- ৪রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান
- ৫সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৩৫
- ৬‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা শুভেন্দুর
- ৭ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জড়িত
- ৮তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৯কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ১০হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল





পাঠকের মতামত