
সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংকের পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ রেখে পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল নিয়ে যখন সমালোচনা হচ্ছে ঠিক তখনই বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক খানকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক ছুটিতে। এতে করে ব্যাংকটিতে আবার দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।
গতকাল রোববার বিকেলে ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে সভায় ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডি আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমডি মূলত বিদেশ সফরের জন্য ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পর্ষদ তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত অর্থাৎ দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে এমডিকে বলেছেন, আপনি দেড়-দুই মাস ছুটি কাটান, সমস্যা নেই।
এ নিয়ে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমডি স্বেচ্ছায় ছুটিতে গেছেন নাকি তাকে কৌশলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন।
কেউ কেউ বলছেন, ব্যাংকের লুটপাটের সঙ্গে জড়িত একটি মহল এমডি ওমর ফারুক খানকে সরিয়ে তাদের পছন্দের লোক বসাতে চাচ্ছেন। ব্যাংকটির অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সাবেক দখলদার এস আলম সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ ওমর ফারুককে সরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে আব্দুল জলিল নামের একজন পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি ব্যাংকটির পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে একমাত্র জামায়াতপন্থী হিসেব পরিচিত ছিলেন। তাকে সরিয়ে এসএম আব্দুল হামিদ এফসিএকে পরিচালক করা হয়েছে। এখন ওমর ফারুককে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
ছুটি বাধ্যতামূলক নাকি ব্যক্তিগত, এ বিষয়ে জানতে এমডি ওমর ফারুক খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা জানান, এমন এক সময়ে এমডিকে ছুটিতে পাঠানো হলো, যখন তার নেতৃত্বে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। গ্রাহকের আস্থা, রেমিট্যান্স ও আমানত- সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যখন কিছু ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে গিয়েছিল, তখন ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মো: মাজেদুল হক বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ রেখে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল পাস হওযার পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে করে জনমনে একটা আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিগত আওয়ামী লীগের আমলের মতো ব্যাংক খাতে লুটপাটের প্রক্রিয়া শুরু হল কিনা এমন আতঙ্ক মানুষের মধ্যে দেখা দিবে। কারণ লুটপাটকারীরা এক সময় এই ব্যাংকটি থেকে লুট করেছে। তাই ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ পাস হওয়ার আবার এই ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ঘটনায় শুধু আমানতকারী না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাংক খাত নিয়ে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হবে। মানুষের আস্থায় আবার ঘাটতি দেখা দিবে। অন্তর্বর্তী সরকার যাওয়ার পর একটা রাজনৈতিক সরকার আসলো। রাজনৈতিক সরকার এসেই যখন ইসলামী ব্যাংকের মতো একটা বড় ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল তখন ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতেই পারে।
তিনি বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল সরকার পাস করাই সরকারকে ধন্যবাদ দিব। কিন্তু এই আইনে ধারা-উপধারা যুক্ত করে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার যে সুযোগ রাখল তাতে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে আবার হতাশা নেমে আসবে। যারা ব্যাংক লুটকারী, যারা ব্যাংকগুলো ধ্বংস করেছে তাদের হাতে যদি আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলে পাবলিক আর এখানে টাকা রাখতে আসবে না। ব্যাংকগুলো এভাবেই চলতে থাকবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে এই ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব দেয়া ঠিক হবে না।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে গত ২ আগস্ট ) তার নিয়োগে অনাপত্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিভিন্ন অনিয়ম–জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার দায়ে গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা চাকরি হারান। এর পর থেকে ওমর ফারুক খান এমডির চলতি দায়িত্ব পালন করেন।
জানা যায়, গত ১০ জুলাই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ওমর ফারুক খানকে নিয়মিত এমডি নিয়োগ দিয়ে অনাপত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকে তার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এর পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে রোববার এমডি হিসেবে অনাপত্তির চিঠি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ওমর ফারুক খান ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে ডিএমডি অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। এর পর তিনি এনআরবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওমর খারুক খানকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় নতুন পর্ষদ।
এএ
- ১প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ২ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৩গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৪অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৫শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৬ফুটবল খেলার বিরোধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
- ৭প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৮রূপালী ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৩ জুলাই
- ৯সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
- ১০দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ১সিরাজগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- ২কক্সবাজারে পরিবার পরিকল্পনা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
- ৩রবি আজিয়াটার বোর্ড সভা ২৮ জুলাই
- ৪নির্মাণাধীন চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ দৃশ্যমান
- ৫প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র-সমাজের যৌথ দায়িত্ব: ডিএসসিসি প্রশাসক
- ৬ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
- ৭১৫ বছরের ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, তবে কাজ শুরু হয়েছে
- ৮যমুনা ব্যাংকের বোর্ড সভা ২২ জুলাই
- ৯হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর
- ১০ওমানে বাংলাদেশ নারী হকি দল চ্যাম্পিয়ন





পাঠকের মতামত