
নাটোরের লালপুরে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ও দেশের অন্যতম বৃহৎ কালীপূজা ও মেলা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ১২টার পর ধর্মীয় রীতি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উপজেলার বুধপাড়া শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দিরে শুরু হয় ৫৩৬তম কালীপূজা অর্চনা। এ সময় দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত, অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকা এক কিলোমিটার ব্যাপী মেলায় দোকান বসিয়েছেন দোকানিরা।
ভোর থেকে শুরু হয় পূজা অর্চনা, পাঠা বলিদান, ভোগ প্রদান, আরাধনা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নানা আচার-অনুষ্ঠান। পূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কালীমেলা, যেখানে এক হাজারেরও বেশি অস্থায়ী দোকান বসেছে। মেলায় হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবার, মিষ্টান্ন, খেলনা, কসমেটিকস, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন গৃহস্থালি তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে।
লালপুরের জোতদৈবকী গ্রামের প্রতিমা কারিগর সুকুমার চন্দ্র হালদার জানান, এ বছর তিনি ২৩ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণ করেছেন, যা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ কালী প্রতিমা। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত এই প্রতিমা তৈরি করে আসছেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি শতদল কুমার পাল বলেন, “আনন্দঘন পরিবেশে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূজা চলছে। আশপাশের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতি বছর কার্তিক মাসে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন শতাধিক পাঠা বলিদান দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “পূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরে দুই টন চাল অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে ৭ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় মিলনমেলা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আগামী রবিবার (২৬ অক্টোবর) শেষ হবে।
প্রসঙ্গত মন্দির সূত্রে জানা গেছে, নবাবি আমলে বর্গীয় অত্যাচার থেকে বাঁচতে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের খাগড়া এলাকা থেকে প্রায় ৬০টি কাঁসাশিল্পী পরিবার লালপুরের বুধপাড়ায় এসে বসতি স্থাপন করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের এসব শিল্পীরা ৮৯৭ বঙ্গাব্দে (১৪৯০ খ্রিস্টাব্দ) শীষচন্দ্র চক্রবর্তীর দানকৃত জমিতে খড়ের ঘরে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির।
পরে ১৩৩২ বঙ্গাব্দে জনৈক লাল কেনেডিয়ার স্ত্রী জানকী বাঈয়ের আর্থিক সহযোগিতায় পাকা মন্দির নির্মিত হয়। জমিদার পূণ্যচন্দ্র দাস মন্দিরের নামে প্রায় দেড়শ বিঘা জমি দান করেন। বর্তমানে কালীমন্দির ও গোবিন্দমন্দিরের আট বিঘা জমি ছাড়া বাকিগুলো বেদখল রয়েছে।
মন্দির কমিটির কোষাধক্ষ্য আশীষ কুমার সুইট বলেন, “মন্দিরের দানকৃত সম্পদগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” ৫৩৬ বছরের ঐতিহ্য, ২৩ ফুট উচ্চতার প্রতিমা, হাজারো ভক্তের মিলনমেলা—সব মিলিয়ে বুধপাড়ার কালীপূজা আজও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অনন্য প্রতীক।
- ১টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ২রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৩লোহিত সাগর এড়িয়ে উত্তমাশা অন্তরীপের পথে সৌদির ৮ ট্যাংকার
- ৪জনতা ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৫কবি নজরুল কলেজের ইলেকট্রিশিয়ান আমানের স্ত্রী নিখোঁজ
- ৬রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৭মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৮জামায়াত কখনো গুপ্ত ছিল না: গোলাম পরওয়ার
- ৯ক্লান্তি দূর করতে ওষুধ নয়, ভরসা হতে পারে ৭টি প্রাকৃতিক অভ্যাস
- ১০চারিত্রিক স্খলন থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)
- ১চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব জাপানি প্রতিষ্ঠানের
- ২ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লুডু খেলা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
- ৩শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান
- ৪লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
- ৫কেশবপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে সচেতনতামূলক র্যালি
- ৬হবিগঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ সচেতনতা সভা
- ৭সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী
- ৮মেজর সিনহা হত্যা: ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিচার
- ৯গুলশানে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি
- ১০চাঁদপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস বাগানে





পাঠকের মতামত