নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:৪৬ পিএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও এ বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি।

এবছরের বিশ্ব হাতি দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘ বার্নিং দ্যা ওয়ার্ল্ড টুগেদার টু হেল্প এলিফ্যান্টস্’ এবং এর বাংলা প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি।’ দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হাতি ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এ প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ হাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্য হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিযায়ী বন্য হাতির সংখ্যা ৯৩ এবং পোষা হাতির সংখ্যা ৯৬। আগামী বছরের মধ্যে পুনরায় হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যা (২০১৮-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত নিহত ৩২২ ব্যক্তির পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির শিকার ৩,২১৫টি পরিবারকে মোট প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মানুষ-হাতি সংঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। হাতি অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল হাতির আগমন সম্পর্কে দ্রুত সতর্কবার্তা প্রদান, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ উপায়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার সংসদীয় আসনের এলাকায় হাতির আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য হাতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, হাতি শুধু আমাদের দেশেই নয় বরং সারা বিশ্বেই বিপন্ন। হাতি রক্ষা হলে কতটা লাভ হবে, তা সাধারণভাবে অনুধাবন করা যায় না। ফলে নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তিনি সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্ষ্ঠুানে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব হাতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে হাতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

প্রতিমন্ত্রী অমিত গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে

গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ...

বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার : পর্যটনমন্ত্রী

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে ...

এসডিজির মূল রূপরেখা বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকারে আগেই ছিল : আমির খসরু

জাতিসংঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বহু আগেই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শনে ...