প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৪ ৮:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন নিউইয়র্কের জুরি। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসতে পারেন ট্রাম্প। এমন একটি নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তাকে আর্থিক কারচুপির সব মামলায় দোষী সাব্যস্ত করলেন আদালত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে প্রথম দোষী সাব্যস্ত হলেন তিনি।

পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ইস্যুতে তার মুখ বন্ধ রাখতে ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনী বাজেট থেকে এই অর্থ দিয়েছিলেন এবং এ সংক্রান্ত নথিতে সেই ঘটনা গোপন করেছিলেন তিনি।

মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা ৩৪টি অভিযোগের সব প্রমাণিত হয়েছে। তাই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক ইউএস প্রেসিডেন্ট। আগামী ১১ জুলাই রায় ঘোষণা করবেন আদালত। আইনি বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগে তার ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে আচরণ পর্যবেক্ষণের পর সাজা মওকুফের সম্ভাবনা বেশি।

জামিন ছাড়াই মুক্তি পেয়েছিলেন ৭৭ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা। এখন একজন অপরাধী। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই প্রথম একটি ঐতিহাসিক এবং চমকপ্রদ ঘটনা।

এই অবস্থায়ও নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে হারানোর জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন ট্রাম্প। এমনকি তাকে যদি কারাগারেও যেতে হয়, তবুও তিনি নিজের অবস্থান বজায় রাখবেন। ট্রাম্পের আইনজীবী টোড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপিলের দিকে নজর রাখছেন তারা।

ট্রাম্প নিজেই এই রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি খুবই নিরপরাধ মানুষ। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কাছ থেকে আমার পক্ষে প্রকৃত রায় আসবে বলে মনে করি আমি। বিচারটিকে সাজানো ও অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাইডেনের প্রচারাভিযান একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, বিচার দেখিয়েছে ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ এতে বলা হয়, ট্রাম্প আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছেন। এর চেয়ে বড় কিছু আগে কখনও হয়নি।

বিচারক জুয়ান মার্চান মিলওয়াকি সিটিতে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনের ৪ দিন আগে ১১ জুলাই থেকে সাজার ঘোষণা করেন। যেখানে ট্রাম্প পার্টির আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পাওয়ার কথা।

১২-সদস্যের জুরি দুই দিন ধরে ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর ফোরম্যান (জুরি) কয়েক মিনিটের মধ্যে রায়ের সর্বসম্মত উপসংহারটি পাঠ করেন। বিচারক মার্চান ‘কঠিন এবং চাপের কাজ’ সম্পন্ন করার জন্য বিচারকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রণক্ষেত্র দিল্লি: ভারতের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় আন্দোলনের’ ডাক সিজেপির

দিল্লির যন্তর মন্তর এখন জনসমুদ্র। রূপ নিয়েছে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরিতে। অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও ককরোচ জনতা ...

ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’, জবরদস্তিই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি: মোজতবা খামেনি

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের ওপর অব্যহত মার্কিন হামলার কড়া সমালোচনা করে দেশটির ...