
পবিত্র রমজান মাস শুরুর এখনও মাস খানেক বাকি। এরইমধ্যে বাজারে মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, পবিত্র শবে বরাতকে সামনে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন মুনাফাখোররা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজ, চাল ও মুরগির দাম বেড়েছে। রমজানের আগেই নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ক্রেতাদের মতে, বাজার খরচ বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় তো বাড়ছে না।
নতুন করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা চালের দাম আবারও বেড়েছে। ভোজ্য তেল ও মুরগির দাম কমার কোনও লক্ষণ নেই। অধিকাংশ পণ্যের দাম রয়েছে আগের মতোই চড়া। এ কারণে ক্রেতা বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে।
গোপিবাগ এলাকার বাসিন্দা আয়ুব আলী বলছিলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে অচিরেই রাজধানী ছেড়ে যেতে হবে। এত দাম দিয়ে পণ্য কিনে ব্যয় নির্বাহ করে পরিবারসহ ঢাকাতে থাকা তার জন্য কঠিন।
তিনি বলেন, ‘বাঁচার জন্য দরকারি পণ্য বিশেষ করে চাল, তেল, চিনি, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম নাগালের বাইরে। এখন পেঁয়াজের দাম ৫৫-৬০ টাকা কেজি। বাজার খরচ শুধু বাড়ছেই। অথচ আয় বাড়ছে না।’
রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারের তথ্য বলছে, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা দোকান থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে ৪০-৫০ টাকায়। বাছাই করা পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের শুরুর দিকে বাজারে আসা মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ শেষের দিকে। এ কারণেই দাম বেড়েছে। আরও কিছুদিন এই পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে।
কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যই বলছে, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। নতুন করে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ টাকা। খুচরা দোকানে নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা, মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা এবং মাঝারি বিআর-২৮ চাল ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি’র তথ্যই বলছে, গত এক সপ্তাহে স্বর্ণা, চায়না অর্থাৎ মোটা চালের দাম বেড়েছে ১.৫ শতাংশ। এই এক সপ্তাহে পাইজাম ও লতা অর্থাৎ মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ১.৮৫ শতাংশ এবং নাজিরশাইল ও মিনিকেট তথা চিকন চালের দাম বেড়েছে ০. ৮০ শতাংশ।
এছাড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা মুরগির দাম কমছে না।
শুক্রবার (১২ মার্চ) খুচরা বাজারে সোনালিকা জাতের মুরগি প্রতি কেজি ৩১০-৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪২০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। শীত চলে যাওয়ার সময়ে বিভিন্ন রোগের কারণে খামারে অনেক মুরগি মারা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষেরা মুরগি খাওয়া ছেড়ে দিতে শুরু করেছে। গরুর মাংসের কেজি ৫৫০-৫৭০ টাকা।
বাজারে মৌসুমের নতুন সবজি হিসেবে উঠতে শুরু করেছে সজনে ডাটা। তবে এ সবজিটির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এক কেজি সজনে ডাটা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। অবশ্য পটল ও ঢেঁড়সের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। এছাড়া আলু, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, গাজর, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটল ও ঢেঁড়সের দাম কিছুটা কমে এখন ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। শশার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকার মধ্যে। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। মূলা ১৫-২৫ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা এবং গাজর ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৪০-৬০ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে চাল, ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্য তেল, চিনি ইত্যাদির বাড়তি দাম থাকায় জানুয়ারি তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির হয়েছে ৫.৩২ ভাগ। যা জানুয়ারিতে ছিল শতকরা ৫.০২ ভাগ। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.৩০ ভাগ।
বিবিএসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চাল, ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি ইত্যাদির মূল্য চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে। আলু, পেঁয়াজ, শাক-সবজি (বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, টমেটো, গাজর ইত্যাদি), ফল (আঙুর, বরই ইত্যাদি) এবং মশলা (জিরা, দারুচিনি) ইত্যাদির মূল্য জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে কমেছে।
গত এক বছরের (২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে শতকরা ৫.৬৩ ভাগ। পূর্ববর্তী একই সময়ে (২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে শতকরা ৫.৬০ শতাংশ। তথ্যমতে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির শতকরা হার ছিল ৫.৪৬ ভাগ। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় কমেছে।
- ১চাঁদপুরে ১৫০ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন অর্ধশতাধিক পরিবার
- ২সিরাজগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
- ৩চাঁদপুরে নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮ শ গ্রামের টিউমার অপসারণ
- ৪ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশি নারী আটক
- ৫জামায়াত-এনসিপির মব রাজনীতিই আ’লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে
- ৬কুষ্টিয়ায় গাঁজাসহ দুইজন আটক
- ৭বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন
- ৮সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৯ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে
- ১০গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ
- ১চাঁদপুরে একযোগে বদলি ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- ২নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিসিক শিল্পনগরী’র গাছ বিক্রির অভিযোগ
- ৩চাঁদপুরে ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ
- ৪মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে এমন বিচার বিভাগ চাই: আইনমন্ত্রী
- ৫আগামী রবিবার মহেশখালী আসছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৬সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৭ভরিতে ৩২৬৬ টাকা কমলো সোনার দাম
- ৮জবির লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন
- ৯১৫ আগস্ট ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে অবসর সুবিধার টাকা
- ১০গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ





পাঠকের মতামত